শালগাছের খুঁটি বসিয়ে গঙ্গায় ভাঙন রোধের কাজ শুরু খড়দহের কুলীনপাড়ায়

0
524
পায়েল সামন্ত

আশঙ্কাকে সত্যি করে ফের নদীর পাড় ভাঙল। খবর অনলাইনে প্রথম এই আশঙ্কার কথা প্রকাশিত হয়েছিল। সেই আশঙ্কাকে নির্ভুল প্রমাণ করে ফের ভাঙন খড়দহের কুলীনপাড়ায়। রবিবার গভীর রাতে এই ঘটনার পর উদ্বেগ আরও বাড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবশেষে মঙ্গলবার সেচ দফতরের কর্মীরা শালগাছের খুঁটি বসিয়ে পাড় সংস্কার তথা ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছেন।

খড়দহের ২২ নং ওয়ার্ডে ভাঙনের সমস্যা প্রথম দেখা যায় ২০১৫ সালে। সেই থেকে ভাঙন শুরু হয় । এই এলাকার ১৭-১৮ টি বাড়ি রয়েছে নদীর ধার ঘেঁষে। গত দু’ বছর ধরে বর্ষা এলেই আশঙ্কা বাড়ে এলাকার সাধারণ মানুষের। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত সপ্তাহে কুলীনপাড়ায় গিয়ে তাঁদের আশঙ্কার কথা শুনেছিল খবর অনলাইন। আগস্ট মাসের ভরা কোটালের জেরে ভাঙনের সম্ভাবনার কথাই বলেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এই ভরা কোটালের দৌরাত্ম্যেই গত বছর পাড় বাঁধাই করা বোল্ডার ধসে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেই সেটা যে এমন মারাত্মক আকার ধারণ করবে, তা কি কুলীনপাড়ার বাসিন্দারা ভেবেছিলেন!

এলাকার বাসিন্দাদের চোখের ঘুম কেড়ে নদী ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে ২২ নং ওয়ার্ডের ভারতী সংঘ সংলগ্ন কুলীনপাড়া। রবিবার রাতের টানা বৃষ্টিতে সারা শহর ও শহরতলি যখন কার্যত বানভাসি, তখন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ভারতী সংঘের কাছে চারতলা আবাসনের সামনের সিমেন্টে বাঁধানো চাতালে কামড় বসায় গঙ্গা। সোমবার সকালে গঙ্গায় জোয়ারের দাপটে ভাঙন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিকেল নাগাদ নদীর থাবায় ধসের পরিধি আরও বাড়ে।

এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সোমবারই এলাকা দেখে যান উপপুরপ্রধান সুকন্ঠ বণিক। আবাসনের বাসিন্দাদের এই বিপজ্জনক স্থান ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয় পুরসভার পক্ষ থেকে। কিন্তু এত কষ্ট করে কেনা আবাসন থেকে কি এতই সহজে চলে যাওয়া যায়? তা ছাড়া হঠাৎ করে বাড়ি পাওয়াটাও তো সমস্যা। আবাসনের বাসিন্দা গৌরগোপাল পালের উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বরে এমনটাই শোনা গেল। তবে কী ভাবছেন তাঁরা?

না, অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা নয়, বরং এই মুহূর্তে শেষ আশাটুকু সম্বল করেই তাঁরা ভরসা রাখছেন সেচ দফতরের উপর। মঙ্গলবারই কাজ শুরু করেছেন সেচ দফতরের কর্মীরা।  শালগাছের খুঁটি বসিয়ে পাড় সংস্কার তথা ভাঙন রোধের কাজ চলছে। এলাকার মানুষই কংক্রিটের বর্জ্য জোগান দিচ্ছেন। পুরোদমে কাজ চলবে বুধবার থেকে। গৌরগোপালবাবুর কথায়, “সেচ দফতরের কাজ সম্পূর্ণ হলে অন্তত বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাব।”

স্থানীয় পুরপিতা সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় জানালেন, “পুরসভার তরফে সব রকমের সহায়তাই করা হচ্ছে। উপপুরপ্রধান ব্যাপারটি বিধায়ক অমিত মিত্রকেও জানিয়েছেন। সেচ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখছেন। বুধবার সকাল থেকে যাতে ভাঙন প্রতিরোধমূলক সমস্ত রকমের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভবপর হয়, জোরকদমে সে চেষ্টা চলছে।”

বিপদগ্রস্ত আবাসনের পাশেই অভিষেক দাসের বাড়ি। ত্রিপল পেতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার দৃশ্য দেখে স্কুলপড়ুয়া অভিষেকের মনে দু বছর আগের সেই স্মৃতি ফিরে আসে। সেবার বালির বস্তা দিয়ে চলেছিল বাঁধ বাঁচানোর কাজ। তাতে রক্ষা পেয়েছিল তাদের খেলার মাঠ। কচি মনে এখন গভীর সংশয়, এবার বাঁধ বাঁচানো যাবে তো?

মঙ্গলবার বিকেল থেকে আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু বর্ষার এখনও অনেকটাই বাকি। তাই প্রশাসন উদ্যোগী হলেও কুলীনপাড়ায় আপাতত ঘাঁটি গেড়ে রেখেছে আতঙ্ক।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here