নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ফের ‘শ্রমিক বিদ্রোহ’। লক আউট করে মালিকপক্ষ চা বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ায় এ বার বাগান চালানোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিলেন শ্রমিকেরাই।

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার ক্যারন চা বাগান। গত তিন মাস ধরে বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। রবিবার বিকেলে কর্মবিরতির বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ  বাগান ছেড়ে চলে যান। এতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েন ৭১২ জন শ্রমিক। তাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সোমবার সকালে শ্রমিকরা এসে নিজেরাই বাগানের কাজ শুরু করেন। 

অভিযোগ, গত নভেম্বর মাস থেকে শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছিলেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাগানের কাজকর্মও বন্ধ ছিল। বাগান সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন বছর ধরে উৎপাদন কমছিল। এর মধ্যে, গত ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের ধাক্কায় সমস্যা আরও বাড়ে। গত বছর ১৬ নভেম্বর শেষ মজুরি পেয়েছিলেন শ্রমিকেরা। তার পর থেকে কাজ করলেও আর মজুরি জোটেনি শ্রমিকদের। ভেঙে পড়েছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থাও। বাগানের হাসপাতালে না আছে চিকিৎসক না আছে অ্যাম্বুলেন্স। হরিপ্রসাদ বরাইক নামে এক শ্রমিক অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, গত সপ্তাহে প্রায় বিনা চিকিৎসায় দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এখানে। এই ঘটনার পর থেকেই ‘মালিক বর্জন’-এর ডাক দেন শ্রমিকেরা।  শ্রমিকদের যুক্তি যে হেতু বর্তমান মালিক এই বাগান চালাতে পারছেন না, তাই তাঁকে সরিয়ে অন্য কারও হাতে বাগান চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হোক। এই পরিস্থিতিতে অবস্থা বেগতিক বুঝেই শনিবার ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিশ ঝুলিয়ে বাগান ছাড়েন মালিকপক্ষ। বাগানের ম্যানেজার প্রিয়ব্রত ভদ্র মজুরি সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের বাগান চালুর কথা ভাবা হবে। যদিও শ্রমিকদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই  মালিককে আর বাগানে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তৃণমূল টি প্ল্যানটেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা শংকর বরাইক জানিয়েছেন, তাঁরা নতুন কোনো বিনিয়োগকারীকে খুঁজে বাগান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন শ্রমিকরা। আরও জানিয়েছেন, যত দিন না পর্যন্ত নতুন মালিক পাওয়া যায় তত দিন তাঁরাই বাগানের কাজকর্ম চালাবেন। যদিও মালবাজারের মহকুমাশাসক জ্যোতির্ময় তাতি জানিয়েছেন, দ্রুত শ্রম দফতরের মাধ্যমে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করে সমস্যা মেটানোর  চেষ্টা করা হবে। সেখানকার শ্রমিকরা যাতে অনাহারে না থাকেন সেইজন্য বাগানে বিশেষ ত্রাণ ও ১০০দি নের কাজ প্রদানের উদ্যোগও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here