mothers day 1

শৌভিক পাল, কলকাতা: মা শব্দের আক্ষরিক অর্থ বের করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খেয়েছেন। ফলে উপলব্ধিতে তা সহজবোধ্য হলেও তার আভিধানিক বিশ্লেষণে একশোয় একশো পাননি কেউ-ই। যে কোনো সম্পর্কই উপলব্ধির বিষয়। কিন্তু মা আর সন্তানের সম্পর্কে বাড়তি সংযোজন নাড়ির টান। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করে সন্তানকে আগলে রেখে নিজের কষ্ট ভুলে থাকার সেই মা। মাদার্স ডে-তে সেই সংজ্ঞাগুলোই নতুন করে ভাবায়। বড়ো ঘরের বিবি থেকে ফুটপাথের ‘মা’, কোথাও কোনো তফাত নেই।

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের বিমান অফিসের সামনের ফুটপাতে মিলে যায় সেই মায়ের দেখা আবার গড়িয়াহাট থেকে কালীঘাটের রাস্তার ধারেও অজস্র ফুটপাতের মা। বাহ্যিক ভাবে হোক বা সামাজিক ভাবে তাঁদের যে পরিচয়ই থাকুক না কেন, তাঁরা মা। না, নাম বলতে নারাজ। একজন বলেই দিলেন, “নাম নেই। কেউ দেয়নি”। আর একজন বললেন, “আগে ছিল, এখন দরকার হয় না”। তবে কারও মধ্যে সন্তানস্নেহের খামতি বিন্দুমাত্র চোখে পড়ে না।

এ শহরেরই একটি ধর্মীয়স্থানের সামনে আঁচল পেতে বসেছিলেন এক মা। গাড়ি থেকে নেমে এলেন এক বাবু। মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে ঘিরে চলল- “ও বাবু, কিছু দিন বাবু”। কয়েক রকমের খাবার ও কিছু টাকা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন বাবু। ভিক্ষুকদের পরিবারের মায়েরা কোলের সন্তানদের জড়িয়ে ধরে খাবার ও টাকা ভাগ করে নিলেন। যতটুকু সুবিধে দেওয়া যায় সন্তানদের।

mothers day
মা আছে কাছেই

ঠিকই ধরেছেন, এটাও একটা পেশা। তবে বিকল্প থাকলেও তার হদিশ বা পরিস্থিতি হয়তো নেই ওঁদের কাছে। একজন জানালেন, “রোদ-ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, নিজে না খেয়েও দিন কাটে কখনও”। প্লাস্টিকের নতুন ঘরটা যখন বর্ষার জলে ছিঁড়ে যায়, তখন আবার একটা নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন ওঁরা। সন্তানের গায়ে যেন না পড়ে প্রকৃতির কোপ।

গরমে হাত পাখার হাওয়া, শীতে গায়ের চাদর টাকে টেনে-মুড়ে দেওয়া সন্তানের গায়ে, বর্ষায় মাথার উপর ছাতা ধরার “আমি-ই সেই মা”। মাদার্স ডে-তে তাঁদের জন্যও রইল স্যালুট।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here