manta devi, bjp candidate

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ভোটারদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেন মহিলা প্রার্থী। অভিযোগ, শাসক দলের সন্ত্রাসের জেরে ঘরছাড়া তিনি। প্রচার করার জন্য তাঁকে এলাকায় ঢুকতেও দেওয়া হচ্ছে না। সেই বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিয়ে নির্বাচনে তাঁকেই বেছে নেওয়ার আবেদন প্রতিটি চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। সেই পঞ্চায়েতের ময়নামতি অঞ্চল থেকে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছেন গৃহবধূ মান্তা বোস চন্দ। ব্যাবসায়ী স্বামী, সন্তান নিয়ে সংসার। এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির হয়ে ১৫/৭৫ বুথে দাঁড়িয়েছেন। তার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রথমে মনোনয়ন দিতেই বাধা দিয়েছিলেন  স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। তা সত্ত্বেও কোনো রকমে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি এবং নিত্য দিন হুমকির মুখে পড়েও তিনি তা প্রত্যাহার করেননি। মান্তাদেবী অভিযোগে জানিয়েছেন, এর পরেই শাসক দলের গুন্ডাবাহিনী বাড়িতে এসে স্বামী- সন্তানের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে যায়।manta devi posting lettersপ্রথমে পাশে দাঁড়ালেও এই ঘটনার পর বেঁকে বসেন স্বামী এবং শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা। নির্বাচন থেকে সরে আসতে বলেন তাঁরা।যদিও তত দিনে মনস্থির করে ফেলেছেন তিনি। মান্তাদেবীর কথায়, “নির্বাচনে দাঁড়ানো গণতান্ত্রিক অধিকার, তাই হুমকির মুখে মাথা নোয়াতে রাজি নই”।এর পরেই ময়নাগুড়ির শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে জলপাইগুড়িতে একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু তাতেও খুব একটা সুবিধে হয়নি। কারণ প্রচারের জন্য তাঁকে এলাকায় যেতেই হবে।

কিন্তু পর পর বেশ কয়েক দিন গিয়েও তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের নেতারা তাঁকে এলাকায় ঢুকতেই দেননি। কিন্তু নির্বাচনে লড়তে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে তো পৌঁছোতেই হবে। তাই মাথা খাটিয়ে পথ বার করেন।

কিন্তু হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুকের যুগে সাবেক যুগের চিঠি কেন? মান্তাদেবী জানিয়েছেন, প্রত্যেক ভোটারের ফোন নাম্বার জোগাড় করে হোয়াটস অ্যাপে বা ফেসবুকের মাধ্যেমে সবার কাছে পৌঁছোনো সম্ভব নয়। তা ছাড়া চিঠির সঙ্গে জাড়িয়ে থাকে আবেগ।

manta devi's letter
মান্তা দেবীর চিঠি।

মান্তাদেবীর চিঠির মধ্যেও সেই আবেগ রয়েছে ছত্রে ছত্রে। তাঁকে জেতানোর জন্য নয়, গণতন্ত্রকে জেতানোর ডাক দিয়েছেন তিনি চিঠিতে। ভোটার লিস্ট থেকে ভোটারদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করেছেন। এ বার চিঠি পাঠানোর পালা। তাঁর বুথে ভোটার আছেন ৭২০ জন। বুধবার জলপাইগুড়ি প্রধান ডাকঘরে এসে ৮৫ জনকে চিঠি পাঠান। আর দিন তিনেকের মধ্যেই সবাইকে পাঠানো হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং বুদ্ধির জোড়া চমকে মুগ্ধ হয়েছে দলও। বিজেপির উত্তরবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিক জানিয়েছেন, মান্তাদেবীর অদ্যম লড়াইয়ে দলের কর্মীরা সর্বতো ভাবে তাঁর পাশে রয়েছে।

এ দিকে এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন ময়নাগুড়ির তৃণমূল সভাপতি মনোজ রায়। তাঁর দাবি, পারিবারিক সমস্যার কারণে বাড়ি ছেড়েছেন ওই গৃহবধূ। চিঠির বিষয়টিকে কম খরচে প্রচারের নতুন চমক বলে কটাক্ষ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।

তবে এই কম দামি প্রচার ‘বহুমূল্য’ হয়ে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলে কিনা সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর কিছু দিন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here