snake bite

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলপাইগুড়ি: কথায় বলে ‘অতি-সাহস ভালো নয়”। বেমাক্কা নিজের প্রাণ দিয়ে তার প্রমাণ দিয়ে গেলেন কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির যুবক অনিল রায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, কেউটে সাপ ধরে ‘খেলতে’ গিয়ে কেউটের ছোবলেই ‘ছবি’ হয়ে গেলেন তিনি।

হলদিবাড়ির কাকপাড়ার অনিল রায় পেশায় শ্রমিক। বাড়িতে স্ত্রী- তিনসন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছর ধরে সাপ ধরার নেশায় মেতে উঠেছিলেন অনিল। বারবার তাঁকে বাধা দিলেও সে শুনতেন না। যদিও কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছিল না তাঁর। কিন্তু কোথাও সাপ বের হওয়ার খবর পেলেই ছুটে যেতেন স্বঘোষিত এই সর্পবিশারদ। বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি খবর পান বটেরডাঙা এলাকায় গোখরো সাপ বের হয়েছে। খবর পেতেই তৎক্ষণাৎ তিনি সেখানে ছুটে যান। সাপটিকে ধরেও ফেলেন। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় তাঁর কেরামতি। কখনো হাতে ঝুলিয়ে, শূন্যে ঘুরিয়ে, কখনো গলায় পেঁচিয়ে সাপটিকে উত্যক্ত করে তোলে তিনি।দৃশ্য দেখে প্রচুর মানুষ জমে যায় সেখানে। তাদের সামনেই চলতে থাকে “খেলা”। অনেকে মোবাইলে সেই দৃশ্যের ভিডিও করে। যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

রবি দাস নামে প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবকের বয়ান অনুযায়ী, সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়ে যায়। তাদের মোবাইলের সামনে “কেউটে” নিয়ে “পোজ” দিতে থাকেন অনিল। স্থানীয়া যুবকেরা অনিলকে বারবার অনুরোধ করে পাশের জঙ্গলে সাপটিকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু কথা শোনেননি অনিল। এর মধ্যেই মুঠি আলগা হতেই, যে হাতে সাপ ধরেছিলেন সেই হাতেই ছোবল বসায় কাল কাউটে। তার পরেও হুঁশ ফেরেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সেই সময় নেশাগ্রস্ত-অসংলগ্ন অবস্থায় ছিলেন যুবক। স্থানীয়রাই তাঁকে হলদিবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানেও বিপত্তি। বিষাক্ত সাপটিকে হাতেই ধরেই হাসপাতালে ঢোকেন তিনি। যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চিকিৎসক, নার্সরা।শেষে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালের পাশের জঙ্গলে সাপটি ছেড়ে দিয়ে আসেন অনিল। তারপর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।দেওয়া হয় অন্টিভেনাম। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।যদিও সেখানে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে তাঁর মৃত্যু হয়।

যুবকের জামাইবাবু কাশীনাথ রায় জানিয়েছেন, ছোবল দেওয়ার পরও সাপ নিয়ে খেলতে গিয়ে অনেকটা সময় নষ্ট করে ফেলেছিলেন অনিল। নইলে হয়তো সে বেঁচে যেতেন। “বিষাক্ত” সাহস প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় ভেঙে পড়েছে যুবকের পরিবার।পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও ছিলেন তিনি। সব জেনে শোকস্তব্ধ হলদিবাড়ি বলছে, নিজের প্রাণ দিয়ে অনিল বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন অতি সাহস ভালো নয়। অতএব, সাধু-সাবধান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here