killed rhino in gorumara

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: উঠতি মস্তান খুন, ‘ডন’-এর হাতে। লড়াইটা ছিল জঙ্গল দখলের। তারই ফল, যৌবনে পা দেওয়ার আগেই প্রাণ গেল গরুমারা দাপিয়ে বেড়ানো গন্ডারটির।

বৃহস্পতিবার ভোরে টহল দিতে বেরিয়ে বনকর্মীরা গন্ডারটির মৃতদেহ দেখতে পান। গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ‘কোর এরিয়া’ ধূপঝোড়ার ১বি কম্পার্মেন্টে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়েছিল মাঝবয়সি পুরুষ গন্ডারটি। বনকর্মীরা তার কিছু বিশেষ চিহ্ন দেখে বুঝতে পারেন, এটি চঞ্চলার সন্তান। বছর চারেক আগে গরুমারার একটি স্ত্রী গন্ডার চঞ্চলা এর জন্ম দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর স্বভাবচরিত্র এবং শারীরিক গঠন অনুযায়ী তাদের নামকরণ করে বন দফতর। তবে  চঞ্চলার এই সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তার নামকরণ হয়নি।

কিন্তু তাতে কী, ছোটো হলেও তার মস্তানি কম ছিল না। একটু শক্তিশালী হয়ে উঠলেই গন্ডাররা নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করতে চায় জঙ্গলে। পিছিয়ে ছিল না এই উঠতি মস্তানও।

জঙ্গলের অন্যান্য পুরুষ গন্ডারদের সঙ্গে প্রায়ই টক্কর নিত সে। এমনকি ‘ডন’ নামে পুরুষ গন্ডারটির সঙ্গে মাঝেমধ্যেই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ত। বনকর্মীরা মনে করছেন এ দিনও ডনের সঙ্গে লড়াইয়েই তার মৃত্যু হয়। যদিও আজ ডনের দেখা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা। কারণ লড়াইয়ে তার আঘাত লাগার কথা, প্রয়োজন চিকিৎসার।

এ দিকে গন্ডারের মৃত্যুর খবর পেতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান উচ্চপদস্থ বনাধিকারিকরা। গত এপ্রিলে জোড়া গন্ডারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল গরুমারা থেকে। তাদের খড়গ কেটে নিয়ে গিয়েছিল চোরাশিকারীরা। তার পর থেকে নজরদারির কড়াকড়ি রয়েছে বনাঞ্চলে। তবে গরুমারার বিভাগীয় বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, আজকের ঘটনাটি যে দু’টি গন্ডারের লড়াইয়ের ফল সে ব্যাপারে চিকিৎসকরা নিশ্চিত। মৃত গন্দারটির খড়গও অক্ষত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মূলত এই খড়গের লোভেই গন্ডার হত্যা করে চোরাশিকারীরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে, খবর বন দফতর সূত্রের। জঙ্গলেই এ দিন মৃত গন্ডারটির ময়নাতদন্ত করা হয়। খোঁজ চলছে অপর জখম গন্ডারটিরও। এ দিনের ঘটনার পর গরুমারায় গন্ডারের সংখ্যা কমে দাড়াল ৫০-এ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here