এই সেই রেলপথ যার ওপর ফ্লাইওভার হওয়ার কথা

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : এখনও জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁসে পড়ে রয়েছে কেটে ফেলা গাছগুলি। তাদের সজীবতা আর ফেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু মাথা উঁচু করে এখনও যে গাছগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে, তারা আরও কিছু দিন বেঁচে থাকার রসদ পেল। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত লাটাগুড়িতে গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ দিন দুপুর আড়াইটেয় পরিবেশকর্মীদের যৌথমঞ্চ এবং সরকার পক্ষ উভয়েই ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে অংশ নেয়। উন্নয়নের খাতিরে এত গাছ কেটে ফেলার জন্য পরিবেশ রক্ষা আইন (১৯৮০) অনু্যায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ছাড়পত্রের প্রয়োজন। সূত্রের খবর, সেই ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি রাজ্য সরকারের তরফে থাকা আইনজীবী। রাজ্যের আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয়, উন্নয়নের প্রয়োজনে কেন্দ্রের নির্দেশই গাছ কাটা শুরু হয়েছিল। তখন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের আইনজীবী সিদ্ধার্থ মিত্র কেন্দ্রের পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র না থাকার প্রসঙ্গ তোলেন। তখন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি এস পি ওয়াংদি  এবং বিচারপতি (টেকনিক্যাল) পি সি মিশ্র আগামী ১৬ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখে ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে ওই দিন কেন্দ্রের পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেশ করার পাশাপাশি এই মামলায় কেন্দ্রকেও ‘পার্টি’ করার নির্দেশ দেন বিচারপতিদ্বয়। জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন রেলপথের ওপর উড়ালপুল তৈরি করবে পুর্ত দফতর। পুর্ত দফতরের আবেদনে লাটাগুড়িতে বনাঞ্চল সংলগ্ন ৫৫০টি বাণিজ্যিক গাছ-সহ কয়েকশো গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বন দফতর। এর পরেই তীব্র আন্দোলনে নামে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হন পরিবেশকর্মীরা। এর পরেই তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত মামলাটিকে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়। এ দিনের রায়ে অনেকটাই স্বস্তিতে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। লাটাগুড়ি বনাঞ্চল পরিবেশপ্রেমী যৌথমঞ্চের সদস্য শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ তাঁদের আন্দোলনের যথার্থতা প্রমাণ করল। গণহত্যার হাত থেকে আপাত ভাবে বাঁচানো গেল কিছু সবুজ-প্রাণকে। এ দিকে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কিছুটা ব্যাকফুটে পুর্ত দফতর ও বন বিভাগ। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পরিবেশকর্মী অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁদেরও আইনি লড়াই জরি থাকবে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ প্রাণগুলিকে বাঁচাতে তাঁরা মরিয়া লড়াই চালিয়ে যাবেন।

1 মন্তব্য

  1. Let us suggest to built tunnel instead of flyover on the bechvanga level crossing ,then the trees can be saved and with modern technology underpass or tunnel can be made beautiful and will enhance tourist attraction too.

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here