স্টকহোলম : আবর্জনা কম পড়েছে সুইডেনের। ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরানো জমি শুকিয়ে গিয়েছে।  আবর্জনার ভাণ্ডার ক্রমশই কমে আসছে। তাই বিদেশ থেকে বাধ্য হয়ে আবর্জনা আমদানি করতে হচ্ছে পৃথিবীর সব চেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ সুইডেনকে।

আবর্জনা আমদানি ? শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন। আবর্জনা কী এমন অতি প্রয়োজনীয় জিনিস যে সুইডেনকে তা আমদানি করতে হচ্ছে। আসলে আমাদের কাছে আবর্জনা যতই পরিত্যাজ্য জিনিস হোক, সুইডেনের কাছে এখন তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে উঠেছে।

ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। সুইডেনে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বহু রিসাইক্লিং প্লান্ট আছে যেখানে আবর্জনা রিসাইক্ল করা হয়। প্রকৃতি আর পরিবেশের যথাযথ সংরক্ষণ নিয়ে সুইডেনবাসী খুবই সচেতন। তাই তাঁরা রীতিমতো অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন রিসাইক্লিং-এ। এতটাই অভ্যস্ত যে ২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বছর গার্হস্থ্য আবর্জনার মাত্র ১ শতাংশ আসে আবর্জনার জমিতে, বাকি সবটাই চলে যায় রিসাইক্লিং-এ। সুইডেনের নাগরিকরা যথেষ্ট দহনযোগ্য আবর্জনা তৈরি করছে না। এই দেশ আবার আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির অন্যতম। এই আবর্জনা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তাদের ভস্মীকরণ কর্মসূচি রয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বাড়ি-ঘরদোর গরম রাখার জন্য ৯৮ লক্ষ মানুষের এই দেশকে আবর্জনা-পোড়ানো বিদ্যুতের উপর নির্ভর করতে হয়। সুইডেন তার প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের প্রায় সবটাই এ ভাবে উৎপাদন করে। সুইডেনই প্রথম দেশ যারা ১৯৯১ সালেই জীবাশ্ম-জ্বালানির উপর কর বসিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দহন-চুল্লিতে যে পরিমাণ আবর্জনা পোড়ানোর দরকার, সেই পরিমাণ আবর্জনা সুইডেনে আর মিলছে না। তাই আবর্জনা-আমদানিই ভরসা এখন সুইডেনে।

অর্থাৎ আবর্জনা হল সুইডেনের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। নরওয়ে, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশ ইতিমধ্যেই আবর্জনা পাঠিয়ে সাহায্য করছে সুইডেনকে। এ বার ইতালি, বুলগেরিয়া আর রোমানিয়া থেকেও আবর্জনা আমদানি করতে চায় সুইডেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here