ওয়েবডেস্ক: ভিডিওগেম থেকে সারা দুপুর মুখ তোলেনি টিটো। ওর মা ডেকে ডেকে হয়রান। সাড়াই দেয় না ছেলে। বিকেলে বাবাই-গুড্ডুরা যখন ডাকতে এল খেলার জন্য, টিটোর মা ভেবেছিলেন, ছেলে তাঁর দরজাই খুলবে না। ওমা! ডোর বেলের আওয়াজ পেয়েই ছেলেটা পা গলিয়ে দিয়েছে জুতোয়। কিছুটা নিশ্চিন্ত হলেন মা। যাক, খেলার নেশাটা তাহলে আগের মতোই আছে ছেলেটার। ল্যাপটপ আর স্মার্টফোনের জমানায় তাহলে আজও বিকেল আসে শিশুদের মনে। কথার কথা নয়, সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দাবি করেছেন, প্রযুক্তিনির্ভরতা শৈশবকে যান্ত্রিক করে তুলতে পারে না। বরং এই প্রজন্মের শিশুরা, তাদের শৈশবকে অক্ষুণ্ণ রেখে আমাদের চেয়ে অনেক স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করেছে প্রযুক্তিকে।

স্ক্রিন( টিভি, কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন)ভিত্তিক জীবনধারা কতটা বদল আনল শিশুদের রোজনামচায়, এই নিয়ে একটি সমীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। আসলে একটি নয়, দু’টি সমীক্ষার আয়োজন করেছিলেন গবেষকরা। প্রথমটি, ২০০০-‘০১ এ। পরেরটি ২০০১৫-‘১৬তে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পশ্চিমী দুনিয়ার কচিকাঁচারা দৈনিক টিভি দেখার অভ্যাস কমিয়েছে গড়ে ১০ মিনিট।

গবেষক কিলিয়ান মুলান তাঁর গবেষণাপত্র ‘চাইল্ড ইন্ডিকেটর রিসার্চ’-এ উল্লেখ করেছেন, এই প্রজন্মের বাচ্চারা প্রযুক্তিকে আপন করে নিলেও শৈশব অটুট রয়েছে ওদের। বিকেলে বাইরে খেলতে যাওয়াও বদলায়নি। আবার ঘরে ফিরে হোম ওয়ার্কে মন বসাতেও অসুবিধে হয় না ওদের। সমস্যা যা হয়েছে, তা আমাদের, প্রাপ্তবয়স্কদের। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা শিশুদেরই সবচেয়ে বেশি থাকে কিনা। তাই সহজাত বাচ্চামিটাকে সাথে নিয়েই ওরা মুঠোয় বন্দি করে স্মার্টফোন। আবার অসময়ের বৃষ্টিতে বাড়ির বড়দের চোখ এড়িয়ে ভিজে একসা হতেও এরা ওস্তাদ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here