খবর অনলাইন: হঠাৎ অবিরাম এলোপাথাড়ি গুলি। সন্ত্রস্ত বিমানবন্দর। মানুষজনের প্রাণ হাতে নিয়ে ছোটাছুটি। তবু ৪১ জন পারলেন না নিজেকে রক্ষা করতে। আর জখম হলেন অন্তত ২৩৯ জন। এঁদের মধ্যে ৪১ জন হাসপাতালের আইসিইউ-তে  রয়েছেন। এই জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা মঙ্গলবার রাতের, ইস্তানবুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরের। পুলিশ পালটা গুলি চালাতেই জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমায় নিজেদের উড়িয়ে দায়।

এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলড্রিম বলেছেন, হামলার ধরনধারণ দেখে মনে হচ্ছে, এ কাজ আইএসেরই। তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও রেকর্ড দেখে আক্রমণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। বুধবার তুরস্কে জাতীয় শোক পালন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টা নাগাদ তিন জন ট্যাক্সি করে এসেই টার্মিনালের প্রবেশ ফটকের সামনে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা গুলি চালায় পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা।bla

তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেসেপ আকদাগ জানান, নিহত ৪১ জনের মধ্যে ১৩ জন হয় বিদেশি না হয় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। আর হাসপাতালে ভর্তি ১২৮ জনের মধ্যে সৌদি আরব, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইউক্রেন এবং সুইৎজারল্যান্ডের মানুষ আছেন।

চলতি বছরে ইতিমধ্যেই তুরস্কে চারটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল। প্রথম হামলা ইস্তানবুলে, পরের দু’টি আংকারায়।

ভারতের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয়ের নিহত বা আহত হওয়ার খবর নেই। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ একটি টুইট করে তুরস্কের তিনটি হেল্প লাইন নম্বর দিয়েছে। সেগুলো হল +৯০-৫৩০-৫৬৭১০৯৫/৮২৫৮০৩৭/৪১২৩৬২৫।

বেঁচে গেলেন দুই ছেলে-সহ হৃতিক

ইস্তানবুল বিমানবন্দরে জঙ্গি হানার ঠিক এক ঘণ্টা আগে সেখানে ছিলেন হৃতিক রোশন এবং তাঁর দুই ছেলে রেহান ও রিদান। কানেক্টিং ফ্লাইট মিস করে অনেক ক্ষণ বিমানবন্দরে আটকে ছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ইকনমিক ফ্লাইট ধরে তাঁরা রওনা হয়ে যান। তার এক ঘণ্টা পরেই ঘটে জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা। এ কথা টুইট করে জানিয়েছেন হৃতিক স্বয়ং।

ছবি: সৌজন্যে বিবিসি নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here