নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি : মণিপুরের চান্দেল জেলার পৃথক পৃথক এলাকায় টহলদার নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাঁচ সশস্ত্র পুলিশ নিহত ও ছয় জন গুরুতর জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দু’টি ঘটনাই বৃহস্পতিবার সকালের। প্রথম ঘটনা মোরে শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে লাকচাও গ্রামে সকাল প্রায় সাড়ে ৬টায় এবং দ্বিতীয় ঘটনা একই অঞ্চলের বঙ্গ্যায়াঙে সকাল প্রায় সাড়ে ৮ টায় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

চান্দেল জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে নাগা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত তেঙনৌপালকে নতুন জেলা হিসেবে উদ্বোধন করতে ওই রাস্তা দিয়ে তেঙনৌপালে যাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিঙের। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জঙ্গলাবৃত গ্রামের রাস্তায় টহল দিচ্ছিল ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন (আইআরবিএন) ও রাজ্য পুলিশের সশস্ত্রবাহিনী। আচমকাই ইম্ফল-মোরে সড়কের ওপর লাকচাও গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গল থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে সন্দেহভাজন এনএসসিআই (এম) জঙ্গিরা। সেখানেই গুলিবিদ্ধ এক জওয়ানের মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েক জন ঘায়েল হন।

আহতদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিন জন মৃত্যুবরণ করেন। নিহতরা মণিপুর পুলিশের হেড কনস্টেবল জামখলুন বাইতে, আইআরবিএন-এর হেড কনস্টেবল ঙারেই মারিং, খুমবির শরত্‍ কুমার, জাইরিপকের রিয়াশ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘায়েলদের মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মণিপুর পুলিশের দুই হেড কনস্টেবল মহম্মদ আয়ুব খান ও ঙারেই মারিঙের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।

এর পর প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ ওই এলাকারই বঙ্গ্যায়াঙেও অনুরূপ ভাবে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা করেছে জঙ্গিরা। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন জীবন সিং নামের এক হাবিলদার। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্য গুলিবিদ্ধদের। গোটা এলাকাকে ঘিরে জঙ্গিদের ধরতে সেনা ও আধা-সেনাবাহিনীর জওয়ানরা চিরুনি অভিযান চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ অক্টোবর বরাতজোরে নাশকতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিংহ। ওই দিন সকালে রাজ্যের উখরুল জেলা সদরে নবনির্মিত একটি ভবনের দারোদঘাটন করতে গেলে আচমকা তাঁর হেলিকপ্টারের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি বর্ষণ করে জঙ্গিরা। ওই গুলি-হামলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী গাইখাংগাম ও তাঁর সঙ্গীরা রক্ষা পেলেও গুরুতরভাবে জখম হয়েছিলেন মণিপুর রাইফেলস-এর দুই জওয়ান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here