পারাভুর (এর্নাকুলাম): অচেনা-অখ্যাত জনগণই ইতিহাস তৈরি করেন, তাঁরা সৃজনশীলতার ভাণ্ডার। এমন সব কথা বলে গেছেন বহু বিখ্যাত মানুষ। তার আরও একটা প্রমাণ হয়তো পাবেন আগামী দিনের মানুষ। আগামী দিন, মানে যখন হয়তো আজকের এই জনপদ ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেই জনপদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে সেদিনের নৃতত্ত্ববিদরা অবাক হয়ে যাবেন। কেরলের একটি বারের সামনে তাঁরা খুঁজে পাবেন একটি ভুলভুলাইয়া। কারণটা তাঁরা তখন জানতে পারবেন কি? বলা মুশকিল।

কিন্তু আমরা জানি। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়। যাতে বলা হয়েছে, জাতীয় বা রাজ্য সড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনো মদের দোকান থাকবে না। এমনকি কোথাও মদ পরিবেশনও করা যাবে না। তারপর থেকে বহু বার এবং পাঁচ তারা হোটেল মদ পরিবেশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। 

এখন কথা হল, কেরলের সুরাবিলাসীরা ঐশ্বর্য রেস্তোবারে ঢুকে তো পরবেন নিশ্চিন্তে। শেষে মাতাল অবস্থায় ওই ভুলভুলাইয়ার ধাঁধা কাটিয়ে বেরোতে পারবেন তো ? ট্যাক্সি না ডেকে উপায় আছে বলে মনে তো হয় না। সেক্ষেত্রে অবশ্য শীর্ষ আদালতের উদ্দেশ্য সফল। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো ঠেকাতেই তাঁদের ওই রায় কি না!

 

কিন্তু অন্যরকম ভেবেছেন, কেরলের এর্নাকুলাম জেলার পারাভুরের ঐশ্বর্য রেস্তোবার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা তাঁদের বারে ঢোকার পথে একটি আঁকাবাঁকা ভুলভুলাইয়া তৈরি করে ফেলেছেন। সোজা পথে আর তাঁদের বারে ঢোকা যাবে না। ওর মধ্যে দিয়েই যেতে হবে। আর সেটা করতে গেলেই পেরোতে হবে বাড়তি ২৫০-৩০০ মিটার পথ। ব্যস। কেল্লা ফতে।

কারণ, এত দিন ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ৫০০ মিটারের মধ্য ছিল ওই বারটি। এখন সে, তার দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছে। 

রেস্তোবার একা নয়, ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের সাইবার হাব ও অ্য়ামবিয়েন্স মলের মতো জনপ্রিয় মলগুলিও, তাঁদের ঢোকার রাস্তা পাল্টে দিয়েছে। ওই মলগুলিতে ঢুকতে হলে এখন ঘুর পথে যেতে হয়। কোনোটায় আবার জাতীয় সড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা মলে ঢোকার জন্য অতিক্রম করতে হয় ১ কিলোমিটারেরও বেশি পথ।

রেস্তোবারের সামনে অমন একটা ভুলভুলাইয়া তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২ লক্ষ টাকা। জানিয়েছেন বার কর্তৃপক্ষ।

এখন কথা হল, কেরলের সুরাবিলাসীরা ঐশ্বর্য রেস্তোবারে ঢুকে তো পরবেন নিশ্চিন্তে। শেষে মাতাল অবস্থায় ওই ভুলভুলাইয়ার ধাঁধা কাটিয়ে বেরোতে পারবেন তো ? ট্যাক্সি না ডেকে উপায় আছে বলে মনে তো হয় না। সেক্ষেত্রে অবশ্য শীর্ষ আদালতের উদ্দেশ্য সফল। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো ঠেকাতেই তাঁদের ওই রায় কি না!

সূত্র: দ্য নিউজ মিনিট

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here