বার্লিন: ক্রিসমাসের ছুটির মেজাজ শুরু হয়ে গিয়েছে জার্মানিতে। এই সময় থেকে সন্ধ্যায় শহরের পথে, বাজারে ওয়াইন, গ্রিলড সসেজ আর মিষ্টি নিয়ে ফূর্তি করা জার্মানদের বহুদিনের ঐতিহ্য। সেই ফূর্তিতে যোগ দেন পর্যটকরাও। সোমবার সন্ধেতেও তেমনই উদ্‌যাপন চলছিল পশ্চিম বার্লিনের ঐতিহাসিক কাইজার উইলহেলম মেমোরিয়াল গির্জার কাছেই ব্রেইডশেডপ্লাত্‌জ-এ। বাজারে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। তখনই একটি বিশাল কালো ট্রাক ঢুকে পড়ে সেখানে। বাজারের স্টলগুলির মধ্যে দ্রুত গতিতে প্রায় ৮০ ফুট এগিয়ে থেমে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১২ জনের। চাকার তলায় পিষ্ট হন অনেকে। কেউ কেউ ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে যান। আহত বহু। হাসপাতালে ৪৮ জন আহতের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার সন্ধে ৮টা নাগাদ ঘটনা ঘটার পর ফূর্তির মেজাজ হারিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ ছড়িয়ে যায় গোটা বার্লিনে।

ভরা বাজারে ট্রাকের ঢুকে পড়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে গত জুলাইতে ফ্রান্সের নাইসে ট্রাক চাপা দিয়ে ৮৬ জনকে হত্যার ঘটনা। পরে সেই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল আইসিস। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই বার্লিনের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলেছে। জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনই একে ‘হামলা’ বলা হচ্ছে না। তবে স্বীকার করা হয়েছে যে, “ঘটনার অনেক লক্ষণই সন্ত্রাসী হামলার মতোই”। সোমবার রাতের দিকে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাকে ওই ট্রাক ড্রাইভারের মতো দেখতে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানি। গত ফেব্রুয়ারিতে সে আশ্রয়ের খোঁজে জার্মানিতে আসে। শেষ পর্যন্ত ওই সনেদহভাজনই যদি দোষী বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে বড়োসড়ো প্রশ্নের মুখে পড়বে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের উদ্বাস্তু নীতি। এই নিয়ে গত এক বছর ধরেই তীব্র বিতর্ক চলছে জার্মানিতে। গত বছর অভিবাসীদের জন্য জার্মানির দরজা খুলে দেন মর্কেল। জার্মানিতে ঢুকে পড়ে প্রায় ১০ লক্ষ উদ্বাস্তু। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গৃহহীন মানুষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here