ওয়াশিংটন: ছ’বছর আপাতদৃষ্টিতে ‘চুপ’ থাকার পর সামরিক আগ্রাসনের পথ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাসায়নিক গ্যাস আক্রমণের জবাব দিতে এ বার সরাসরি সিরিয়ার বিমানঘাঁটি লক্ষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তারা।

মার্কিন সূত্রে খবর, ভূমধ্যসাগরে স্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি থেকে সিরিয়ার শায়রত বিমানঘাঁটির উদ্দেশে ৫৯টি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন সেনা। ওয়াশিংটনের মতে, এই শায়রত বিমানঘাঁটি থেকেই মঙ্গলবার রাসায়নিক গ্যাস আক্রমণ করেছিল সিরীয় সেনা। এই হামলার ফলে শায়রত বিমানঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, এমনই জানিয়েছে সিরীয় সেনা।

ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই আক্রমণের কথা জানিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসাদ সরকারের এই ‘বর্বরোচিত হামলা’-এর নিন্দা করে তিনি বলেন, “সিরিয়ায় এই ধরনের রক্তক্ষরণ এবং খুনোখুনি বন্ধ করার জন্য বিশ্বের সমস্ত দেশকে আহবান জানাচ্ছি।” মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, শায়রত বিমানঘাঁটিতে মজুত সারিন গ্যাসের ভাণ্ডারে যাতে না আঘাত লাগে সেই জন্য আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই হামলার সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ অর্থাৎ, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইজরায়েল, সৌদি আরব এবং তুরস্ক। সেই সঙ্গে এই হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছে সিরিয়ার বিরোধী এবং বিদ্রোহীরা। ভবিষ্যতে আরও এ রকম হামলার চালানোর জন্য দাবি করা হয়েছে তাদের তরফ থেকে। ব্রিটেনের একটি পর্যবেক্ষক দলের মতে, এই হামলায় অন্তত সাত জন সিরীয় সেনা নিহত হয়েছে। যদিও সিরীয় সেনার দাবি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছ’জন।

ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা করেছে সিরিয়া। সত্য ঘটনা না জেনে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে জিহাদিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনই অভিযোগ সিরিয়ার।

তীব্র নিন্দা রাশিয়ার

পুরোনো তিক্ততা ভুলে কয়েক মাস ধরে নিজেদের মধ্যে সখ্যতা বাড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। সৌজন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নিজের নির্বাচনী প্রচারসভায় একাধিকবার ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সম্পর্কে ফের চিড় ধরাল এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা।

মিত্র দেশ সিরিয়ার ওপর হামলা চালানো হলে দু’দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে আগেই এই বার্তা দিয়ে রেখেছিল ক্রেমলিন। এ দিনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মস্কো বলেছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হবে। ক্রেমলিনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন এই হামলাকে ‘সর্বভৌম দেশের ওপর সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘নেতিবাচক প্রভাব পড়বে’। সেই সঙ্গে সিরিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here