saptamiসপ্তমী ঘোষ :

যে দেশের প্রতিটি মানুষ সাক্ষর, যেখানে নাগরিকদের জন্য বিনা খরচায় ওয়াই ফাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, বিশ্বের সব থেকে বড়ো তেল গবেষণাগার রয়েছে যে দেশে, সেই দেশকে কেন তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলা হয়, তা নিয়ে খেদ প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত আগস্ত মন্তিয়েল।

৪১তম কলকাতা বইমেলায় শনিবার এক প্রশ্নোত্তরপর্ব অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত। তাঁর দেশটা কেমন তা বিশদে জানান তিনি। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ সাক্ষরতার হার অর্জন করেছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ। উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে, ২০০৫-এর মধ্যে তাঁরা দেশের জনগণকে পুরোপুরি শিক্ষিত করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। কথায় কথায় তিনি জানান, তাঁদের দেশের প্রতিটি শিশু স্কুলে গেলে বিনামুল্যে পায় ল্যাপটপ, কলেজে উঠে পায় ট্যাব। পুরো লাতিন আমেরিকার মধ্যে ভেনেজুয়েলাতেই সব চেয়ে বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, গর্বের সঙ্গে জানালেন মহামান্য রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ। আর এই ভেনেজুয়েলাতেই আছে বিশ্বের সব থেকে বড় তেল গবেষণাগার। এই তেল বিক্রি করে যে মুনাফা হয় তা খরচ করা হয় দেশের শিক্ষায় ও স্বাস্থ্যের কাজে। নানা ক্ষেত্রে এত অগ্রগতি সত্ত্বেও তাঁর দেশকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এই তাঁর আক্ষেপ। কোন মাপকাঠিতে তাঁর দেশ তৃতীয় বিশ্বের দেশ, প্রশ্ন রাষ্ট্রদূতের।

তিনি বলেন, ভারতে ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে কোনো তথ্য এসে পৌঁছোয় না। তেমনই তাঁর দেশে ভারতের কোনো খবর জানতে হলে ভরসা করতে হয় পাশ্চাত্যের মিডিয়ার ওপর। এই ব্যবস্থা কেন চলবে, তা জানতে চান রাষ্ট্রদূত। তিনি চান, ভারত থেকে খবর যাক সরাসরি, যা প্রকাশ করছেন ভারতীয়রাই। তেমনই তাঁদেরও দেশের খবর সোজাসুজি এসে পৌঁছোক এই দেশে। দুই দেশের যোগাযোগ আরও গভীর করার জন্য তিনি কলকাতা বইমেলায় ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণ করার ইছে প্রকাশ করেন।

ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের মিল কোথায়? জানাতে গিয়ে তিনি তুলে আনেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকেজের কথা। নিজের এক কবিতায় মারকেজ লাতিন আমেরিকার জাতির জনক সাইমন বলিভিয়ারকে দেখিয়েছেন এক আমগাছের তলায় বসে আম খাচ্ছেন। পরে গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকেজকে মনে করানো হয় যে আম তাঁদের দেশে পৌঁছেছে ১৮৮০-এর পর। লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে আম পৌঁছোয় ভারত থেকে, ইউরোপিয়ান ও উত্তর আমেরিকানদের হাত ধরে। আজ ভেনেজুয়েলার প্রতিটি শিশুর শৈশব অপূর্ণ আম ছাড়া, যা ভারত থেকে এসে পৌঁছেছে তাঁদের দেশে।    

ছবি: শৌর্য মেয়ুর   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here