নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : এ বার ‘তফশিলি জাতি উন্নয়ন পর্ষদ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জলপাইগুড়ি পৌঁছে এই ঘোষণা করেন তিনি।

পাঁচ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে সোমবার বিকেলে জলপাইগুড়িতে পৌঁছোন তিনি। সেখানে পূর্ত দফতরের বাংলোতে আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেন। ২০১১ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনজাতির উন্নতির জন্য এই পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল, যার মাথায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এ ছাড়াও রাজ্যের আদিবাসীকল্যাণ মন্ত্রী জেমস কুজুর-সহ একাধিক বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি রয়েছেন এই পর্ষদে। তাঁদের সঙ্গেই দীর্ঘ বৈঠকে পর্যালোচনা হয় পর্ষদের কাজকর্ম নিয়ে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন,  আদি-জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে এই পর্ষদ। এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া আদিবাদী যুবকেরা অনেকেই চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বা আইপিএস, আইএএস অফিসার হচ্ছেন। এর পরেই তিনি জানান, একই ভাবে তফশিলি জাতিভুক্ত ভাই-বোনেদের জন্যও উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করে দেওয়া হবে। 

বস্তুত জনজাতিভিত্তিক পৃথক পৃথক বোর্ড বা পর্ষদ তৈরি করে উন্নয়ন আরও তরান্বিত করা যায় বলে বরাবরই দাবি করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার সব চেয়ে বড় প্রমাণ, ২০১১-তে ক্ষমতায় এসেই পাহাড়ে তামাং, লেপচা প্রভৃতি জনজাতির জন্য পৃথক পৃথক বোর্ড গড়ে দিয়েছিলেন। তার পরে একে একে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য এই ভাবে এখনও পর্যন্ত  ৯টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন তফশিলি জাতিভুক্ত মানুষদের পাশাপাশি রাভা বা টোটোর মতো পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু জনজাতিগোষ্ঠীগুলিও।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন