the pond where the youth drowned
এই সেই পুকুর। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়নাগুড়ি: তিনটি শিশুকে বাঁচানোর পর নিজেই ডুবে গেল পুকুরে। এ ভাবেই প্রাণ হারাল ১৭ বছরের এক যুবক। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ি থানার জল্পেশ মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। পুলিশ জানায় মৃত যুবকের নাম আশিস শর্মা (১৭)। এ দিন শিলিগুড়ি থেকে এক অবাঙালি পরিবার জল্পেশে পুজো দিতে আসেন। সেই পরিবারেরই ছেলে আশিস। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুজো দেওয়ার পর পরিবারের সবাই মন্দির চত্বরে বসেছিলেন। পরিবারের তিনটি বাচ্চা তখন পুকুরের ঘাটে গিয়ে জলে নেমে পড়ে। তারা জলে তলিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় আশিস জলে নেমে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু উদ্ধারের পর সে আর জল থেকে উঠে আসতে পারেনি। সে-ও জলে তলিয়ে যায়। স্থানীয় যুবকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে জল থেকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে ময়নাগুড়ি গ্রামীন হাসপাতালে এবং সেখান থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “আমরা শিলিগুড়ির বাইরে কোথাও যাই না। বছরে একবার পরিবারের সকলে মিলে জল্পেশে এসে পুজো দিই। কোনো বার দুর্ঘটনা ঘটেনি।”

jalpesh temple
জল্পেশ মন্দির। নিজস্ব চিত্র।

দুর্ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বাধা দেওয়া হয়। উত্তেজিত কেউ কেউ সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যায়। উত্তেজিত দর্শনার্থীদের বক্তব্য, পুকুরের ঘাটে জলের মধ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়া ছিল। সেই বেড়ার ও পারে কেউ যেতে পারত না। ফলে গোটা শ্রাবণ মাসে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী পুকুরের জলে স্নান সেরে সেখান থেকে জল নিয়ে জল্পেশ্বরের মাথায় ঢাললেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

শ্রাবণী মেলা শেষ হওয়ার পর মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পুকুরের বাঁশের বেড়া খুলে নেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের বক্তব্য, বাঁশের বেড়া খোলার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মন্দির কমিটির একজন মুখপাত্র বলেন, “বছরে তিন বার মেলার সময় পুকুরের ঘাটে জলের মধ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। ভিড়ের মধ্যে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেই উদ্দেশ্যেই বেড়া দেওয়া হয়। অন্য সময় বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয়না। কারণ খুব একটা ভিড় হয় না।”

এ দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম ছিল। তার মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটল। ময়নাগুড়ি থানা থেকে পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পর মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে পরিবারের সদস্যদের শিলিগুড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন