মধুপুরে আদিবাসী উৎসবে আদিবাসী নৃত্য।
মৃণাল মাহাত

আদিবাসীদের মন পেতে এ বার প্রত্যন্ত গ্রামে উৎসব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা তৃণমূল। জেলা নেতৃত্বের সুপারিশক্রমে এ বারের আদিবাসী দিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলাস্তরীয় অনুষ্ঠান উদযাপিত হল একদা মাওবাদী অধ্যুষিত শালবনীর মধুপুর গ্রামে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, সাংসদ মানস ভুঁইয়া-সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে সবুজসাথী প্রকল্পের সাইকেল প্রদান, এলাকার কৃতী আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, ধমসা-মাদল প্রদান, চারাগাছ ও পাট্রা বিলি-সহ সাঁওতালি নাচগানের অনুষ্ঠান হয়।

কিন্তু, প্রশ্ন হল প্রশাসনের তরফে এত বড়ো একটা অনুষ্ঠান মধুপুরের মতো প্রত্যন্ত গ্রামে কেন করা হল? এর আগে সমস্ত প্রশাসনিক সভা-সহ বড়ো অনুষ্ঠানগুলি হয়েছে জেলাসদরে শহরে, নিদেনপক্ষে ব্লকসদরে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক মেরামত করতেই এই প্রত্যন্ত গ্রাম বেছে নেওয়া। প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে। যার বেশির ভাগটাই গিয়েছে বিজেপি-র অনুকূলে। আদিবাসী গ্রামগুলিতে এখন প্রচণ্ড ভাবে সক্রিয় সংঘের নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, লোকসভা ভোটের আগেই জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে মজবুত করার জন্য কলকাতা থেকে নির্দেশ এসেছে। এর জন্য বেশি করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার গ্রামগুলিতে কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধুপুরের এই উৎসব এ সবেরই একটা প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছে সচেতন মহল।

মধুপুরে আদিবাসী উৎসবের মঞ্চে।

পাশাপাশি অশান্ত জঙ্গলমহলের স্মৃতি উসকে দেওয়ারও একটা উদ্দেশ্য রয়েছে বলে  রাজনৈতিক মহলের ধারণা। জঙ্গলমহলের অশান্ত পরিস্থিতিতে মধুপুর ছিল মাওবাদীদের অন্যতম ঘাঁটি। টানা তিন বছর প্রশাসন প্রবেশ করতে পারেনি এই এলাকায়। প্রায় পাঁচ জন খুন হয়েছেন এই গ্রামে। মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও সাংসদ মানস ভুঁইয়াও তাঁদের বক্তৃতায় সে কথা উল্লেখ করেছেন। মমতা সরকারের আমলে আদিবাসীরা যে অনেক ভালো আছে,  সে কথা উল্লেখ করে তৃণমূল সরকারের পাশে থাকার জন্য আদিবাসী জনতাকে আহ্বান জানানো হয়। সাংসদ মানস ভুঁইয়াও জঙ্গলমহলে আগের অশান্ত পরিস্থিতি যাতে না আসে তার জন্য সচেতন থাকার পরামর্শ  দেন। আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তিরিশটি রাজ্যের মধ্যে বাংলার আদিবাসীরাই সব চেয়ে ভালো আছে।

তৃণমূল সরকারের এই কর্মসূচি আদৌও কি বিজেপি-র কাছ থেকে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনতে পারবে? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে জেলাবাসী।

ছবি: প্রতিবেদক

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন