Jhargram Murder
ছবি: প্রতিবেদক

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: মঙ্গলবার সকালে ঝাড়গ্রামের দরখুলি ও টেঙ্গিয়া গ্রামের মাঝামাঝি যায়গা থে‌কে এক তৃণমূল নেতার কোপানো মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের নাম চন্দন ষড়ঙ্গী (৫১)। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, আগের রাতে গ্রামের বাড়ি জামবনির দুবড়া গ্রাম থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ঝাড়গ্রাম শহরের নতুনডিহির বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে।

মৃতের গলা-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপ শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের সভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের সঙ্গে আঁতাঁত করে জঙ্গল মহলে কেউ কেউ অশান্তি পাকাচ্ছে।

এই ঘটানায় তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে বিজেপি ও সিপিএমের দিকে। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকেই পাল্টা দায়ী করেছেন। ঘটনায় দুবড়া গ্রামের এক সিপিএম সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার খুনোখুনিতে জামবনির নাম মাও-জামানার বহু আগেই সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে। ১৯৯০ সাল থে‌কে সম্প্রতিককালে সেই মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শতাধিক। নয়ের দশকের প্রথম দিকে পড়শুলি গ্রামের ক্ষিতীশ মাহাতোকে দিয়ে শুরু। তার পরে সোনামুখী গ্রামের পুলিন মাহাতো, মনোরঞ্জন মাহাত, স্বপন মল্লিক, বড়শোল গ্রামের শিক্ষক ভরত মণ্ডল, শ্যামাপদ পাত্র, পালবাঁশি গ্রামের গৌরী মালতী সরেনসহ প্রায় শতাধিক। তবে এই খুনের ঘটনাগুলির একটিরও আদালতে রায় ঘোষণা হয়নি।


আরও পড়ুন: গ্রাম প্রধান নির্বাচনেও ঝাড়গ্রামে তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

জানা গিয়েছে, চন্দনবাবুদের পরিবার বহু কাল ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০২ সালে সিপিএমের আক্রমণে নিহত হন তাঁর বাবা মোহিনী ষড়ঙ্গী। তাঁরা ছিলেন কংগ্রেসি পরিবার। তার আগে কুনার হেম্ব্রম নামে এক সিপিএম কর্মীর খুনের ঘটনায় তাঁর দাদুর নাম অভিযোগে উঠে আসে। চন্দনবাবু ঝাড়খণ্ড পার্টিতে থাকাকালীন এই দুবড়া গ্রামেই তাঁর সঙ্গী মধু মণ্ডলকে খুন হতে হয়, সে সময় পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। এখন তৃণমূলের জামানায় সেই তিনিই নিহত হলেন।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন