padatik express
পদাতিক এক্সপ্রেস। ছবি সৌজন্যে ইন্ডিয়া রেল ইনফো।
রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়

জলপাইগুড়ি: পদাতিক এক্সপ্রেসের স্টপেজ নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি কি পূরণ হতে চলেছে? উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার বিভাগীয় অফিসের সুপারিশ অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি নিউ আলিপুরদুয়ার এবং শিয়ালদহের মধ্যে চলাচলকারী পদাতিক এক্সপ্রেসের স্টপেজ দিতে হবে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে। এই দাবিতে তাঁরা আন্দোলনও করেছেন। কিন্তু কিছুই হয়নি। মাঝখানে পরীক্ষামূলক ভাবে ৫১ দিনের জন্যে স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা-ও তুলে নেওয়া হয়।জলপাইগুড়ির মানুষজন কিন্তু থেমে থাকেননি। তাঁরা একের পর এক স্মারকলিপি রেল দফতরের কাছে জমা দিয়েছেন।

অবশেষে জলপাইগুড়ির শহরের দাবি মেনে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে পদাতিকের স্টপেজ দেওয়ার ব্যাপারটি আলিপুরদুয়ার বিভাগীয় অফিস অনুমোদন করেছে। এবং তাদের তরফ থেকে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের সদর দফতরে এ-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে পদাতিক দাঁড়ালে তা বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভজনক হবে। শুধু সদর দফতরেই না, টাইমটেবিল তৈরির জন্য রেলের যে কমিটি আছে তাদেরও এই কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন শুরু হল সংস্কারের কাজ, ফরাক্কা সেতুতে যান নিয়ন্ত্রণ

২০১৭-এর ১০ নভেম্বর থেকে ২০১৮-এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পদাতিক এক্সপ্রেসকে পরীক্ষামূলক ভাবে জলপাইগুড়ি রোডে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা হয়। মোট ৫১ দিন স্টপেজ দেওয়ার পর ১ ফেব্রূয়ারি তা তুলে নেওয়া হয়। ৫১ দিন পরীক্ষামূলক স্টপেজে কত যাত্রী জলপাইগুড়ি রোড থেকে উঠতেন এবং নামতেন, কত যাত্রী এই স্টেশনের জন্য টিকিট কেটে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে উঠতেন এবং নামতেন, তার সব কিছু আলিপুরদুয়ারের বিভাগীয় অফিস থেকে খতিয়ে দেখা হয়। তাতে দেখা যায় জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে পদাতিক দাঁড়ালে তা রেলের পক্ষে লাভজনকই হবে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ারের বিভাগীয় বাণিজ্যিক আধিকারিক সুবিমল সেন বলেন, “জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে পদাতিক এক্সপ্রেস দাঁড়ালে রেলের পক্ষে তা লাভজনক হবে। আলিপুরদুয়ার বিভাগীয় অফিস থেকে বিষয়টি অনুমোদন করে সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন টুসু বানানো হাতে ঝাড়গ্রামের দুর্গাপুজোয় ‘বর্ণপরিচয়’-এর দেড়শো বছর

রেল সূত্রে জানা যায়, পদাতিক এক্সপ্রেসের জন্য আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের মধ্যে এসি প্রথম শ্রেণিতে ১০টা, এসি টু টায়ারে ৩২টা, এসি থ্রি টায়ারে ১৬৬টা এবং স্লিপার ক্লাসে ১৩৭টা কোটা ছিল। এর ৭৫ ভাগ টিকিট জলপাইগুড়ি থেকে যাত্রীরা কাটতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও যে সমস্ত পর্যটক উত্তরবঙ্গে আসতেন তাঁদের কেউ কেউ নিউ জলপাইগুড়ির কোটায় এই ট্রেনটির টিকিট না পেলে জলপাইগুড়ি রোড থেকে টিকিট কেটে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ট্রেনে উঠতেন। সংরক্ষণের নির্ধারিত ফর্মে বোর্ডিং নিউ জলপাইগুড়ি দেখাতেন। তবে এঁদের সংখ্যা নগণ্য।

তবে বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভজনক হওয়া ছাড়াও একটি ট্রেনের কোনো স্টেশনে পাকাপাকি স্টপেজের বিষয়টি আরও অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। তার মধ্যে একটি হল অপারেশনাল বিষয়। এ ছাড়াও পদাতিক উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল ছাড়াও পূর্ব রেলের এলাকা দিয়েও চলাচল করে। শিয়ালদহ পূর্ব রেলের অধীন। তাদের অপারেশনাল দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। পদাতিক কোন সময়ে কতক্ষণের জন্য জলপাইগুড়ি রোডে দাঁড়াবে তা-ও অনুমোদন করে পাঠানো হয়েছে টাইমটেবিল কমিটির কাছে। সব কিছু খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রেল বোর্ড।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন