ওয়েবডেস্ক: আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে নিজের মত ব্যক্ত করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন। গত শনিবার কলকাতার শিশির মঞ্চে ‘ভারত কোন পথে’ নামের আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বামপন্থী হোক আর দক্ষিণপন্থী, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে সবাইকে জোট বাঁধতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি টেনে নিয়ে আসেন বিশ্বযুদ্ধের কথাও। রাত পোহাতেই অমর্ত্যর সেই মত নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

রবিবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন ,”বামেরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তাব দিলে দলে তা নিয়ে দল চিন্তাভাবনা করবে”। লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বামপন্থীদের সম্পর্কে যথেষ্ট নমনীয়। দলের ব্রিগেড সভায় বামপন্থীদলগুলিকে আমন্ত্রণের মাধ্যমে তার ইঙ্গিতই দিয়েছেন। এ বার অমর্ত্যর মতের পরিপ্রেক্ষিতে পার্থবাবুর এমন মন্তব্য বিষয়টিকে খোলসা করে দিল বলেই ধারণা রাজনীতির কারবারিদের।


আরও পড়ুন: ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোটের পক্ষে জোর সওয়াল করলেন অমর্ত্য সেন

যদিও সিপিএমের তরফে বেশ গরম মনোভাবই প্রকাশ করা হচ্ছে তৃণমূলের উদ্দেশে। সিপিএম মনে করে, তৃণমূলই বিজেপি-কে এ রাজ্যে ডেকে নিয়ে এসেছে। বাংলায় বিজেপির উত্তরোত্তর বৃদ্ধির মূলে রয়েছে তৃণমূলের দিশাহীন রাজনীতি। অমর্ত্যর বক্তব্য সিপিএমের মুখপত্রের প্রথম পাতায় ফলাও করে প্রকাশ করা হলেও বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের নামে তৃণমূলের হাত ধরার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

অন্য দিকে স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই অমর্ত্যকে বিঁধেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবার রাখিবন্ধনের দিন দিলীপবাবু অমর্ত্য সেনকে ভুল পথের যাত্রী বলে উল্লেখ করে বলেন, “অমর্ত্য সেনের একটা কথা বোঝা উচিত, ওঁর চিন্তাধারাকে মানুষ পরিত্যাগ করেছে”।


আরও পড়ুনসংখ্যায় নয়, বিজেপি কু-চিন্তায় গুরু: অমর্ত্য সেন


কংগ্রেস অবশ্য মনে করছে তাদের নেতা রাহুল গান্ধী আগামী লোকসভা ভোটের জন্য অমর্ত্যর ব্যাখ্যা করা পথেই ঘুটি সাজাচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন