বাঁকুড়া: বৃষ্টি থামতেই চাইছে না, উলটে বাঁকুড়ায় আবার দ্বিশতরান হাঁকাল সে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শহরে। এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ৫৮ মিমি।

নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার জোড়া ফলায় গত চার দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। বৃষ্টির নিরিখে বাঁকুড়া সব থেকে এগিয়ে থাকলেও, পিছিয়ে নেই পশ্চিমাঞ্চলের বাকি অংশও। সোমবার বৃষ্টির হিসেবে বাঁকুড়ার পরেই রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় এবং বর্ধমানের পাঞ্চেত। দু’টি জায়গাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১৯০ মিলিমিটার। দুর্গাপুর এবং আসানসোলে বৃষ্টি হয়েছে যথাক্রমে ১০০ এবং ১২০ মিলিমিটার। ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পুরুলিয়ায়ও। এ ছাড়াও বীরভূম এবং বর্ধমান জেলার বিভিন্ন অংশে ৭০ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

শুধু পশ্চিমাঞ্চলই নয়, অতিবৃষ্টির কবলে পড়েছে ঝাড়খণ্ডও। এখানেই চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে রাজ্য প্রশাসনের। গত ২৪ ঘণ্টায় দু’শো মিলিমিটারের বৃষ্টি হয়েছে ঝাড়খণ্ডে দামোদরের অববাহিকা অঞ্চলে। এর ফলে দামোদরের ওপর চাপ বাড়ছে ক্রমশ। বাড়তি জল ধরে রাখতে না পেরে ছেড়ে দিচ্ছে জলাধারগুলি।

মঙ্গলবার জল ছাড়ার পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে ডিভিসি। প্রসঙ্গত দশ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড়ার জন্য ডিভিসিকে অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুরোধ রাখা সম্ভব নয় বলে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে।

তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির জন্য একটা স্বস্তির খবর অবশ্য শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নিম্নচাপটি ক্রমে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরতে থাকায় বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। বৃহস্পতিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন