shraddha ceremony of vajpayee
বাজপেয়ীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: হিন্দু শাস্ত্রমতে দশ দিন অশৌচ পালনের পর পুরোহিত ডেকে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন বাঁকুড়ার সিমলাপালের গোপালনগর গ্রামের পুলকেশ পাত্র। পেশায় লটারী ব্যবসায়ী এই বিজেপি কর্মী বাজপেয়ীজির মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছিলেন। পুলকেশবাবুর বাবা নরেন্দ্রকৃষ্ণ পাত্র প্রাক্তন আরএসএস কর্মী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাঁর অনুমতি নিয়ে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পারলৌকিক কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন পুলকেশবাবু। সেই মোতাবেক টানা দশ দিন হিন্দু শাস্ত্রমতে অশৌচ পালন করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পিণ্ডদানও করেন। নিয়ম মেনে দশ দিন দাড়ি রেখেছেন। তার পর নাপিত ডেকে মাথা মুড়িয়েছেন। কুলপুরোহিতকে দিয়ে করিয়েছেন শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান। পারিবারিক আত্মীয় স্বজনদের পাশাপাশি জেলার বেশ কিছু বিজেপি নেতা কর্মীও এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শ্রাদ্ধবাসরে উপস্থিত থেকে অভাবনীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী সিমলাপালের প্রত্যন্ত এই গ্রামের মানুষগুলি। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ তদারকির ফাঁকে নরেন্দ্রকৃষ্ণবাবু বলেন, ছেলে আমার কাছে এই কাজে অনুমতি চেয়েছিল। আমি অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু আপনারা এখনও জীবিত। এ ভাবে কি ছেলে ‘বাবা’র পারলৌকিক কাজ করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে নরেন্দ্রকৃষ্ণবাবু বলেন, “আমাদের শাস্ত্রে কোনো বাধা নেই। আমাদের দু’জনের পারলৌকিক কাজ করার জন্য বড়ো ছেলে আছে। ছোটো ছেলের ইচ্ছেকে আমরা মর্যাদা দিয়ে বাজপপেয়ীজির পারলৌকিক কাজ করার অনুমতি দিয়েছি।”

এ বিষয়ে পুলকেশ পাত্র বলেন, “প্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীকে আমার বাবার মতোই চিরকাল দেখে এসেছি। ওঁর মৃত্যুর পর বাবার অনুপ্রেরণায় আমি হিন্দু শাস্ত্রমতে পারলৌকিক কাজ শেষ করলাম।” এই কাজে গ্রামের মানুষের প্রত্যেকের যথেষ্ট সহযোগিতা তিনি পেয়েছেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অটলবিহারী বাজপেয়ী দেশের মানুষের জন্য যে সব উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তা প্রশ্নাতীত বলে মনে করেন আজন্ম বিজেপি-সমর্থক পরিবারের এই সদস্য। সেই কারণেই পিতৃতুল্য এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও আত্মার শান্তি কামনায় এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন বলে তিনি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন