দার্জিলিং: এক দিকে পাহাড়ে অতিরিক্ত বাহিনী না পাঠানোর ব্যাপারে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবির সমর্থনে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং-এর অবস্থান, পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলল।

পাহাড়ে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল রাজ্য। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে পাহাড়ে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হবে না। তারা আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হলে পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তাদের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকার। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের দাবিকে মান্যতা দেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রের। সব দিক খতিয়ে দেখেই কেন্দ্রের কাছ থেকে বাহিনী চাওয়া হয়েছিল।

ইতিমধ্যে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবির পাশে দাঁড়িয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে একটি চিঠি লিখেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই চিঠি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

২৩ বছর সিকিমের ক্ষমতায় থাকা এই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, “আমরা সবাই জানি ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জাতপাত, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের জন্য সিকিম ও দার্জিলিং-এর সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। সব চেয়ে কাছের প্রতিবেশী হিসাবে আমরা সিকিমের মানুষজন সব সময় তাদের ভালো চাই… প্রয়োজনের সময়ে আমরা দার্জিলিং-এর মানুষের পাশে থেকেছি। আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।”

ইতিমধ্যে আগামীকাল শুক্রবার জিটিএ ছাড়ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। জিটিএ-এর ৪৫ জন সদস্যকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে মোর্চা। সংস্থার প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির কাছে শনিবারের মধ্যে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে রাজ্য সরকারের ডাকা পাহাড় নিয়ে সর্বদল বৈঠকে যায়নি বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে ডাকা সর্বদল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর না-থাকা বুঝিয়ে দেয়, রাজ্য সরকার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন