somen mitra and adhir chowdhury

কলকাতা: ১৯৯২-৯৮ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন সোমেন মিত্র। তাঁর দক্ষতা বা যোগ্যতা নিয়ে ঘরে-বাইরে নেই কোনো সংশয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আগামী ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে শাসক দল বিরোধিতার উল্লেখযোগ্য ‘মুখ’-কে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে ফের সভাপতিপদে নিয়ে আসায় সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিধাবিভক্ত কংগ্রেস শিবির।

শুক্রবার দলীয় ভাবে ঘোষণা করার আগেই সংবাদ মাধ্যমে চাউর হয়ে যায় দিল্লি থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে প্রাক্তন সভাপতি সোমেন মিত্রকে। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কাছে প্রথমে তা অবিশ্বাস্য ঠেকলেও পরে উচ্চনেতৃত্বের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এর পরই প্রদেশ কংগ্রেসের বিভিন্ন মহল থেকে দিল্লি নেতৃত্বের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় চাপান-উতোর।

সোমেনবাবু কার্যত স্বীকার করেন নেন তিনি এ বিষয়ে আগাম কিছু জানতেন না। একই ভাবে অধীরবাবুও বলেন, তাঁকেও আগাম কোনো কিছু না বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানাতে গিয়ে একটি সংবাদ মাধ্যমে তাঁর অভিমানের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে সভাপতিপদ থেকে সরানো হলেও লোকসভা ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

কংগ্রেসের একটি মহলের মতে, অধীরবাবু তৃণমূল-বিরোধিতার সুর যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, তা আরও বেশি শক্ত হবে সোমেনবাবুর মতো প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে মিলিত হলে। তা ছাড়া দল চালানোয় সোমেনবাবুর যে অভিজ্ঞতা, তা সমৃদ্ধ করবে প্রদেশ কংগ্রেসকে। এ বিষয়ে এক কংগ্রেস নেতা বলেন, “সোমেনদা এই পদে আসা প্রদেশ কংগ্রেস একজন সর্বক্ষণের সভাপতি পেল। কারণ, আগের সভাপতি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র এবং দিল্লিতে কাজের চাপে প্রদেশ অফিসে ততটা সময় দিতে পারতেন না। কিন্তু সোমেনদা কংগ্রেসের ফিরে আসার পর থেকে নিয়মিত প্রদেশ অফিসে থাকেন”।


আরও পড়ুন: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অধীরকে!

অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের একাংশ সমর্থকের দাবি, ‘এআইসিসি সোমেন মিত্রকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিপদে বসিয়ে তৃণমূলকে চাঙ্গা করল’। আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘সোমেন-অধীর জুটি সাধারণ মানুষের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন