TMC facebook

কলকাতা: গত সোমবার আচমকা ফেসবুক থেকে ডিলিট হয়ে যায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের একাধিক ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সমর্থকদের মারফত সেই খবর পৌঁছায় দলীয় উচ্চ নেতৃত্বের কানে। তাঁরা দিল্লিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। এমনকী আইনি পথে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তৃণমূল নেতৃত্বকে আশ্বস্থ করে জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টোর পর ওই ডিলিট হওয়া গ্রুপগুলি রিস্টোর করা হবে। ওই দিন রাতে বাস্তবিক ভাবে তা ফেসবুকে ফিরে আসে। কিন্তু কেন্দ্রের বিরোধী রাজনৈতিক দলের ফেসবুক গ্রুপ নিয়ে কেন এমনটা আচরণ করল ফেসবুক, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। অধরা রয়ে গেল আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণের উত্তর।

কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দলীয় সমর্থকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গেও পিছিয়ে নেই গেরুয়া শিবির। বিজেপি বা আরএসএস-এর সমর্থকরা একাধিক ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত দলীয় প্রচার চালাচ্ছেন নির্বিঘ্নেই। একই ভাবে সিপিএম-কংগ্রেস-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও একাধিক ফেসবুক গ্রুপ কলকাতা থেকে প্রচারের কাজ করছে। জেলায় জেলায় খোলা হয়েছে পৃথক অঞ্চলভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ। কিন্তু ২টি ভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কী ভাবে একই সঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল?

টিএমসিএস ফেসবুকের একটি অতিপুরনো রাজনৈতিক গ্রুপ। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ২ লক্ষ ১৪ হাজার। এ হেন একটি গ্রুপ আচম্বিতে ফেসবুক থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর দলের আইটি সেলের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী গত ৯ অক্টোবর সকাল ন’টায় টুইটারে অভিযোগ করে লেখেন, “ফেসবুককে প্রভাবিত করে তৃণমূল সমর্থকদের দু’টি গ্রুপ (টিএমসিএস এবং টিসিসিএফ) ডিলিট করিয়ে দেওয়ার নোংরা রাজনীতির তীব্র প্রতিবাদ করছি আমরা।… এত নীচে নেমেও বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের দাপট রুখতে পারবে না”। এই একই অভিযোগে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি আইনি পথে বিষয়টি মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দেন।

তবে বিজেপির তরফে তৃণমূলের এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। কিন্তু যে প্রশ্নগুলির উত্তর তৃণমূলের তরফে আশা করা হয়েছিল, সেগুলিরও কোনো সদুত্তর মেলেনি। যেমন-‌

১. ফেসবুক থেকে তৃণমূল সমর্থকদের গ্রুপ ডিলিট করার আগে কি আগাম কোনো নোটিফিকেশন পাঠানো হয়েছিল?

২. ফেসবুক গ্রুপটি ডিলিট হওয়ার নেপথ্যে কি কোনো যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা গিয়েছিল?

৩. ফেসবুক গ্রুপটি ফিরে আসার পর দেখা গিয়েছে, সেটির যাবতীয় তথ্য অবিকৃত রয়েছে। এই তথ্য কতটা সুরক্ষিত?

৪. এই ঘটনার নেপথ্যে কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনীতি?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন