Alik Chakraborty
ছবি: ইন্টারনেট থেকে

কলকাতা: দীর্ঘ আলোচনার পর জট কাটল ভাঙড় প্রকল্পের। শনিবার আলিপুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকেই স্থির হয়ে গেল, কৃষকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরই ফের শুরু হবে প্রকল্পের কাজ। তবে পাওয়ার গ্রিড নয়, ভাঙড়ের নির্মীয়মান প্রকল্পটি ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক পাওয়ার স্টেশন হিসাবে। মূলত এই শর্তেই আন্দোলনকারীরা তরফে রাজ্য সরকারের প্রস্তাব মেনে নেয়। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই এমএল রেডস্টার নেতা অলীক চক্রবর্তীও।

জানা গিয়েছে, এ দিন প্রশাসনের তরফে আন্দোলনকারীদের প্রায় সমস্ত দাবিই মেনে নেওয়া হয়। এমনকী পাওয়ার গ্রিডের পরিবর্তে আঞ্চলিক পাওয়ার স্টেশন নির্মাণের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। অলীক জানান, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজ্য সরকার সমস্যার সমাধানে সক্রিয় হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকেও বসেছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। জমি মালিকদের তরফে যে সমস্ত দাবি-দাওয়াগুলি উত্থাপন করা হয়েছিল, প্রশাসনের তরফে তা মেনে নেওয়ার আর কোনো জটিলতা রইল না।

এ ক্ষেত্রে সরকারের নমনীয় ভূমিকাও যে অনেকাংশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা অনস্বীকার্য। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই ভাঙড় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গেই পথে নামতে হয় শাসক দল তৃণমূলকে। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্বের অংশগ্রহণে আরও জটিল হয়ে ওঠে ভাঙড়ের পরিস্থিতি। সৃষ্টি হয় মেরুকরণের। নির্দল প্রার্থী হিসাবে পঞ্চায়েতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন আন্দোলনকারী জমি জীবিকা কমিটির পাঁচ সদস্য। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসতে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আন্দোলনকারী এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন।

পড়তে পারেন: ঘুষ নেওয়া রুখতে নয়া দাওয়াই, ২০০ টাকার বেশি থাকবে না পুলিশের পকেটে

উল্লেখ্য, এ দিনের বৈঠক থেকে জানা যায়, পাওয়ার স্টেশন নির্মাণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জমি জীবিকা কমিটির সদস্যদেরও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন