নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : অসহ্য গরমে একটু গলাটা ভিজিয়ে নিতে ঠান্ডা পানীয়ের বোতল কিনেছিলেন তিন বন্ধু। একটা বোতল খুলে গলায় ঢালতেই পানীয় বিস্বাদ ঠেকে অজয় নামে এক জনের। ভালো করে বোতলে চোখ রাখতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। নামী বহুজাতিক কোম্পানির ওই ঠান্ডা পানীয়ের বোতলে থিকথিক করছে ছত্রাক। ক্ষুদ্ধ ওই যুবক থানায় অভিযোগ করার পাশাপাশি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সোমবার জলপাইগুড়িতে এমনিতে রোদের উত্তাপ ছিল চড়া। শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলায় ওই পানের দোকানে ততক্ষণে ভিড় জমে গিয়েছে। সকলেই বোতলের ভেতর ছত্রাক দেখতে উৎসাহী। অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন ঠান্ডা পানীয়টি হয়তো অনেক দিনের পুরোনো। যদিও বোতলের গায়ে লেখা তারিখে বোঝা যাচ্ছে এক্সপায়ারি ডেট শেষ হতে আরও মাস দুয়েক বাকি। আবার অনেকের মতে, এটি জাল। ভিড় থেকে অনেকেই  দোকানের মালিককে জেরা শুরু করে। যদিও দোকানের মালিক রাজেশ কর্মকারের সাফাই, তাঁরা ডিস্ট্রিবিউটারের কাছ থেকে প্রচুর ঠান্ডা পানীয়ের বোতল  নিয়ে আসেন। তাঁর পক্ষে প্রতিটি বোতল যাচাই করে দেখা সম্ভব নয়। জাল হলেও তাঁর পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। যদিও তাঁর দোকানের ফ্রিজে থাকা আরও পানীয়ের বোতলগুলি দেখাতে রাজ হননি। শুধু জানিয়েছেন, সেগুলি ডিস্ট্রিবিউটারকে ফেরত দিয়ে দেবেন।

এ দিকে অরিন্দম সাহা নামে সেই ডিস্ট্রিবিউটার ঘটনার পর থেকেই ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তবে যাঁর হাতে এই ছত্রাক ভর্তি বোতল এসেছিল, সেই অজয় শা অবশ্য বিষয়টিকে লঘু করে দেখতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঠান্ডা পানীয় খেয়ে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকরাও বলছেন, যেখানে এই ধরনের ঠান্ডা পানীয় এমনিতেই ক্ষতিকর, তার মধ্যে ছত্রাক থাকলে, তা তো ভয়াবহ ব্যাপার। এই ধরনের ঠান্ডা পানীয় কিনে খাওয়ার আগে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অজয় জানিয়েছেন, থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি ক্রেতা সুরক্ষা দফতরেও অভিযোগ জানাবেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন