দার্জিলিং : দার্জিলিঙে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কার্যালয়ে অভিযান চালাল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালের ওই অভিযানে মোর্চা কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয় একাধিক তিরধনুক, বন্দুক, বোমা বানানোর নানা উপকরণ-সহ বেশ কিছু নগদ অর্থ। সিংমারি ও পাতলেবাস এলাকায় পুলিশ হানা দিয়ে কয়েক জন মোর্চা কর্মীকে গ্রেফতার করে। পুলিশের এই অভিযানের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকাল পাহাড় বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে মোর্চা। পাহাড়ে অবশ্য এমনিতেই মোর্চার ডাকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। বৃহস্পতিবার এই ধর্মঘটের চতুর্থ দিন।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পুলিশি অভিযানের মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন তিনি মোর্চার কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রস্তুত। অভিযানের পর পরই বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে যায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন লাগানো। ঘটতে থাকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। বিক্ষোভকারীরা কালিম্পং-এর একটি পুলিশ চৌকিতে অগ্নিসংযোগ করে। দার্জিলিংয়ের কাছে পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্লোগান দেয়, দার্জিলিং অন্য কাশ্মীরে পরিণত হবে। পুলিশ পালটা লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পাথরের ঘায়ে আহত হন বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। মোর্চার কাউন্সিলর তথা কালিম্পং পৌরসভার মেয়রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায়, মোর্চার সহকারী সাধারণ সম্পাদক বিনয় তামাং বলেন, “আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি অত্যাচারের পর আমরা পাহাড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বুধবারই এক বিবৃতিতে মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং বলেছিলেন, পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি পর্যটকদের দার্জিলিঙে না আসতে অনুরোধ করেন। বলেন, এই আন্দোলন চলবে।

ঘটনার পর বিমল গুরুং-এর স্ত্রী আশা গুরুং অভিযোগ করেন, পুলিশ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা তাঁদের বাড়িতেও ঢুকেছিল। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মোর্চার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিরধনুক পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী তিরন্দাজি প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সচিবালয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (আইন ও শৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলি ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ বলে দাবি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে মোর্চা। পুলিশকে আটকানোর উদ্দেশ্যে এই অস্ত্রগুলি রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা কমিটির সভাপতি রাজেন মুখিয়ার প্রশ্ন, মোর্চার অফিসে এত তিরধনুক, অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ টাকা রাখার অর্থ কী?

সিপিআই (এম) পলিটব্যুরোর সদস্য ও লোকসভা সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে পাহাড় নিয়ে সর্বভারতীয় দলের বৈঠক করা। বিজেপির জাতীয় সচিব রাহুল সিনহা বলেন, গত ৭ বছর ধরে পাহাড় শান্ত ছিল। কোনো বন্‌ধ ছিল না। পুলিশকে ব্যবহার করে পাহাড় দমিয়ে রেখে বাঙালির মন জয় করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন