নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: চুরি গেল হাতকড়া! তা-ও আবার আদালতের হাজতের তালা ভেঙে। জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতের হাজতে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে হাজতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীরা এসে দেখতে পান হাজতের তালা ভাঙা। ভেতর থেকে গায়েব তিনটি হাতকড়া। আর ওলটপালট করা হাজতের অন্যান্য জিনিসপত্র। রবিবার আদালত বন্ধ থাকায় ভিড় তেমন ছিল না। শুধুমাত্র বিশেষ আদালত খোলা ছিল। তবে খবর ছড়িয়ে পড়তেই চলে আসেন আদালতের আইনজীবিরা। ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত। যেখানে রাতপাহারার জন্য ৪ জন পুলিশকর্মী নিযুক্ত থাকেন, সেখানে কী করে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা। মাস তিনেক আগে আদালতের বেশ কয়েকটি জায়গায় রাতের অন্ধকারে রহস্যজনক ভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুড়ে যায় বেশ কিছু নথি। সেবারও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তা ছাড়া হাতকড়ার মতো একটি বস্তু চুরি করে কার কী লাভ তা-ও বোধগম্য হচ্ছে না কারওর। জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অভিজিৎ সরকারে বক্তব্য, আগুন লাগা এবং হাতকড়া চুরি, এই দু’টি ঘটনা কোনো বড় ঘটনা ঘটানোর অশনিসংকেত হতে পারে। রাতে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছেন তিনি। তবে এরই মধ্যে মশকরা করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। কারও কারও বক্তব্য, হাতকড়া লাগানো হয়েছিল এমন কোনো প্রাক্তন আসামির কাজ এটা। পুরোনো রাগ মেটাতে হাজতের তালা ভেঙে হাতকড়াগুলিই নিয়ে গিয়েছে সেই ধুরন্ধর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি শুভাশিস চাকী। তবে তিনি ঘটনাটিকে খুব বেশি আমল দিতে নারাজ। আদালতের মতো জায়গায় পুলিশি নিরাপত্তার গাফিলতির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, তদন্ত হচ্ছে বলে দায় সেরেছেন আইসি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন