কলকাতা: মৌসুমী অক্ষরেখা এবং নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। দফায় দফায় ভারী বর্ষণও হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। আগামী অন্তত পাঁচ দিন এ রকম বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। হতে পারে ভারী বৃষ্টিও।

গত মঙ্গলবার ওড়িশা দিয়ে একটি গভীর নিম্নচাপ স্থলভূমিতে প্রবেশ করার পর থেকেই আমুল বদলে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। তবে নিম্নচাপটির প্রত্যক্ষ প্রভাব কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের ওপর পড়েনি। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের ওপর হুহু করে জলীয় বাস্প ঢুকতে শুরু করে। সেই সঙ্গে যোগ হয় মায়ানমার, বাংলাদেশ হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে আসা আরও একটি নিম্নচাপ। মৌসুমী অক্ষরেখাও এখন দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। এই সবের প্রভাবে গত ৪৮ ঘণ্টায় ভালো বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে।

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছিল ৫৫ মিমি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরেও দক্ষিণ শহরতলির অঞ্চলগুলিতে এক দফা প্রবল বর্ষণ হলেও, আলিপুরে বৃষ্টি না হওয়ায় তা রেকর্ড করা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে বর্ধমান এবং বীরভুম জেলায়। সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পাঞ্চেত জলাধারে (১৬০ মিমি)। এর পরেই রয়েছে সিউড়ি (১৫০ মিমি), রামপুরহাট (১২০ মিমি), লাভপুর (৯০) এবং বোলপুর (৮৩ মিমি)। মূলত দামোদর অববাহিকা অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় নদীর জলস্তর বাড়ারও আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

তবে এখনই আবহাওয়া উন্নতির কোনো সম্ভাবনা তো নেইই, বরং আরও বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। কিছু বিদেশি আবহাওয়া সংস্থার তরফ থেকে জানা গিয়েছে যে আগামী দু’একদিনের মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের ওপর। ভারী তো বটেই, হতে পারে অতি ভারী বৃষ্টিও।

এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। পূর্বাভাসমতো আগামী কয়েক দিন যদি সত্যি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়, তা হলে ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন