jangalmahar
চলছে শিবির। নিজস্ব চিত্র
মৃণালকান্তি মাহাত

ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের বেশির ভাগ মানুষ জীবনজীবিকার জন্য জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে মানুষ জঙ্গলে ঢোকেন শালপাতা, কাঠ ইত্যাদি সংগ্রহ করতে কিংবা গরু-ছাগল চরাতে। এর ফলে বহু মানুষই সাপের কামড়ের মুখোমুখি হন।

সচেতনতার অভাবে অনেকেই ওঝার কাছে চিকিৎসার জন্য চলে যান। ফলে প্রায়শই সর্পদংশনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। জঙ্গলমহলে এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এগিয়ে এল হিল (হিউমান অ্যান্ড এনভারনমেন্ট আলায়ান্স লিগ) নামের একটি সংস্থা।
হিলের সম্পাদক শুভ্রজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা মূলত পরিবেশ, বন্য জীবজন্তু এবং জঙ্গলকেন্দ্রিক মানুষদের নিয়ে কাজ করি। সর্পদংশনে যাতে একজনেরও মৃত্যু না হয় তার জন্য আমরা সচেতনতা শিবির করে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেছি।” প্রাথমিক ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহল এলাকায় অবস্থিত তিনটে ব্লককে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থা সূত্রে খবর।
গত ২৮ আগস্ট শালবনী ব্লকের শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, গড়বেতা-২ ব্লকের কেওয়াকল গ্রামীণ হাসপাতাল ও মেদিনীপুর সদর ব্লকের দেপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা ভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ দেন হিলের সদস্য অরবিন্দ পাল, বাপী মাহাত ও নিলাদ্রী মন্ডল। আশা-কর্মীরা যে হেতু তৃণমূল স্তরে কাজ করেন, প্রাথমিক ভাবে তাই তাঁদেরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান হিলের সদস্য রাকেশ সিংহ দেব।
রাকেশ বাবু বলেন,  “প্রশিক্ষণে মূলত সাপের কামড়ের প্রাথমিক চিকিৎসা শেখানো হয়। কামড় খাওয়া রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার বদলে যাতে দ্রুত হাসপাতালমুখী করা যায় সে ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়। এলাকায় কী ধরনের সাপ পাওয়া যায়, কেমন দেখতে, বিষের প্রকৃতি কেমন, কোন সাপ কামড়ালে কী ধরনের লক্ষণ দেখা যায় তারও ছবি ও ভিডিও দেখানো হয় শিবিরে।”
পাশাপাশি সাপের কামড় রুখতে এবং নিরীহ সাপকে যাতে হত্যা না করা হয়, এই ধরনের কর্মসূচি কী ভাবে গ্রামাঞ্চলে করা হবে সে ব্যাপারেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগামী দিনে বিশেষ বিশেষ গ্রামগুলিতে এবং জেলার অন্যান্য ব্লকগুলিতেও প্রশিক্ষণ শিবির করা হবে বলে সংস্থা সূত্রে জানানো হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন