দিন রাত কম্পিউটারে মুখ গুজে বসে থেকে, পড়াশোনার চাপ সামলাতে না পেরে, স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে বিস্তর ফারাক মানতে না পেরে, অথবা বাবা মায়েদের প্রত্যাশার কাছে হার স্বীকার করে কৈশোর অথবা তারুণ্যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার ঘটনা আমাদের দেশে আকছার ঘটছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার তালিকায় বেশ প্রথম দিকেই রয়েছে আইআইটি-গুলো। ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে খড়গপুর আইআইটিতে চালু হল নতুন নিয়ম। রোজ সন্ধের দিকে ক্যাম্পাস জুড়ে থাকবে না বিদ্যুৎ সংযোগ। বাধ্য হয়েই নাকি ঘরের বাইরে বেরিয়ে কিছুক্ষণ সময়ের জন্য সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প, আড্ডায় সময় কাটাবে পড়ুয়ারা।

আত্মহত্যাপ্রবণ ছেলে মেয়েদের প্রধান সমস্যা হল, এরা মানুষের থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখে। সহপাঠীদের সঙ্গে ভাবনা আদান প্রদান করলে, আলাপ আলোচনা করলে মনের অবসাদ অনেকটাই কমে। এই কারণেই ক্যাম্পাসে দৈনিক লোডশেডিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডিন মনীশ ভট্টাচার্য।

স্নাতক স্তরে দেশের কঠিন পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম আইআইটি-র প্রবেশিকা। ভর্তি হওয়ার পরেও টানা চার বছর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চালাতে হয় লড়াই। সেই চাপ সামলাতে না পেরে প্রায়ই আত্মহননের পথ বেছে নেয় পড়ুয়ারা। এই বছরের শুরুতেই আইআইটি খড়গপুর সাক্ষী থেকেছে এমন দুই দুর্ঘটনার। ন্যাশানাল ক্রাইম ব্যুরোর হিসেব বলছে ২০১৫ সালে ভারতে যে ৮৯৩৪ টি ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, তার প্রায় ৩ শতাংশ ঘটেছে স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেই।

কিন্তু অবসাদ যাদের গ্রাস করে সহজেই, লোডশেডিং তাদের সব মন খারাপ দূর করতে কতটা সক্ষম হবে, সে উত্তর এখন কারোর কাছেই নেই। পড়ুয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোর পঠন পদ্ধতির বদল না হলে কতটা কমবে মনের আঁধার?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন