tmc

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্য ব্যাপী ডামাডোলের মধ্যেই বর্ধমানেও অশান্ত পরিবেশে আপাতত শেষ হয়েছে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশ। তার পরেই প্রশাসনিক সুত্রে প্রকাশ করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান। পূর্ব বর্ধমান জেলার মোট জেলা পরিষদ আসনের সংখ্যা ৫৮ টি। যার মধ্যে ১৩টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এখনও মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রক্রিয়া বাকি আছে। জেলা পরিষদ আসনগুলির মধ্যে বিরোধীরা মনোনয়ন দিতে পেরেছে ৪৫টি আসনে। যার মধ্যে বিজেপি ৪২টিতে , সিপিএম ১৮টিতে ও কংগ্রেস ৯টি আসনে। এ ছাড়াও কয়েকটি আসনে বিএসপি ও নির্দল প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন। শুধু মাত্র সেই আসনগুলিতেই  নির্বাচন হবে। বাকি ১৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিনা নির্বাচনেই জয়ী হতে চলেছে।  তবে জেলা পরিষদ দখলের ম্যাজিক ফিগার ৩০ হওয়ায় আর ১৭টিতে জয়ী হতে হবে তৃণমূলকে ।

মনোনয়ন পর্বের শুরু থেকেই রাজ্য-সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার বিরোধীরা শাসক দলের বিরুদ্ধে মনোনয়নে বাধা, মারধরের ঘটনা তুলে ধরে সন্ত্রাসের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, মনোনয়ন দিতে দিলে সমস্ত আসনেই প্রার্থী দিত তারা। এই ১৩টিপ মধ্যে  আউসগ্রাম দুই থেকে ১টি  আসন , মেমারি এক ও দুই থেকে ৩ টি, রায়না এক ও দুই থেকে ২টি, খণ্ডঘোষ ১টি, কাটোয়ায় ১টি । কেতুগ্রাম এক ও দুই থেকে ৩ টি মঙ্গলকোট থেকে ২ আসনে বিরোধীরা মনোনয়ন তুলতে পারেনি। বিগত জেলা পরিষদের নির্বাচনে ৫৮টির মধ্যে ৯টি আসন বিরোধীদের দখলে ছিল।

মোট  পঞ্চায়েত সমিতির ৬১৮টি আসনের মধ্যে ৩০ টি আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। সেখানেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছে তৃণমূল। আবার ৩২৩৪টি  গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে  ১৬১১টিতে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারেনি ।

বিরোধীদের মধ্যে সিপিএমের  জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক বলেন, ‘ নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন তুলতে দেওয়া হয়নি। বিডিও-এসডিও অফিসে ঢুকতে গেলে মারধর করা হয়েছে। আমাদের প্রচার করার কোনো গনতান্ত্রিক পরিস্থিতি নেই ।’

বিজেপিও কার্যত একই দাবি করেছে। বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী বলেন, ’গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হলে আমরা খুব ভালো ফল করতাম। ইতি মধ্যেই আমরা প্রচার শুরু করেছি বাড়ি বাড়ি গিয়ে। এই সকারের দুর্নীতিগুলোকে সামনে রাখব। গুরুত্ব দিচ্ছি সোশ্যাল মিডিয়াকেও।’’

তবে জেলা পরিদষদের সভাধিপতি দেবু টুডু দাবি করেন, ‘আমরা গ্রামে গ্রামে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিটা গ্রামে রাস্তাঘাট, ১০০ দিনের কাজ খুব ভালো হয়েছে, মানুষ সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছে। তাই মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা এইগুলোই গ্রামে গ্রামে প্রচারে তুলে ধরছি। আমরা সমস্ত আসনেই জয় লাভ করব। তবে বিরোধীরা  মনোনয়ন তোলার প্রার্থী পায়নি বলে আমাদের উপর অভিযোগ করছে।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন