Mamata Banerjee
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

কলকাতা: ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে বিমার পরিমাণ বাড়াল রাজ্য সরকার। সরকারি এই স্বাস্থ্যবিমার আওতাধীন ব্যক্তি এত দিন দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুযোগ পেতেন। বৃহস্পতিবার নবান্নে অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বার থেকে এই বিমার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পে আগ শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীরাই বিমার সুযোগ লাভ করতেন। পরে তিনি ঘোষণা করেছেন, এই প্রকল্পের সুবিধা সমান ভাবে পাবেন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। সম্প্রতি সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও এই বিমা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিমার পরিমাণ বৃদ্ধির খবর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সরকারি কর্মীদের কাছে পুজোর আগে বড়োসড়ো একটি উপহার বলেই মনে করছেন তাঁরা।

গজলডোবায় চালু হল ‘ভোরের আলো’, দেখে নিন কিছু ছবি

এত দিন এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিমার টাকা পর্যাপ্ত নয় বলেই অনুযোগ উঠছিল। কারণ, সরকারি  হোক বা বেসরকারি হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা যথোপযুক্ত নয়। সে ক্ষেত্রে বিমার আওতায় থেকেও সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে অন্য ভাবে আর্থিক সংস্থান করতে হতো। তবে এ বার বিমার পরিমাণ তিনগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় সে সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী কী রয়েছে এই বিমার আওতায়: এই স্বাস্থ্য বিমার আওতায় ১৯০০-র বেশি ধরনের রোগের চিকিৎসার সুবিধা দিচ্ছে সরকার। হাসপাতালে থাকাকালীন সমস্ত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা , ওষুধ, খাবার দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া বাবদ ২০০ টাকা এবং ভর্তির একদিন আগে ও ছাড়া পাওয়ার পরের ৫ দিনের ওষুধও বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে চালু হয়ে গিয়েছে মোবাইল অ্যাপ। রয়েছে ফেসবুক, ট্যুইটার এবং টোল -ফ্রি নম্বরে (১৮০০-৩৪৫-৫৩৮৪) সমস্ত তথ্য জানা এবং অভিযোগ জানানোর সুবিধা। এছাড়াও ওয়েব পেজ: www.swasthasathi.gov.in-এ সমস্ত তথ্য জানা যাবে। একদম প্রান্তিক এলাকাতেও কোন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, চিকিৎসকের নাম, কাছাকাছি কোথায় কোন ধরনের সুপার স্পেশালিটি রয়েছো, কোন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স —আইসিইউ রয়েছে ইত্যাদি নানা খুঁটিনাটি তথ্য হাতের মুঠোয় পাওয়া যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে।
কারা আবেদন করবেন: সিভিক ভলান্টিয়ার্স, গ্রিন ভলান্টিয়ার্স, ভিলেজ ভলান্টিয়ার্স, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার্স, বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মী, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী বল (এনভিএফ), হোম গার্ড, আইসিডিএস কর্মী ও সহকারী, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের স্বনির্ভর গোষ্ঠী, পঞ্চায়েতিরাজ ইনস্টিটিউটের চুক্তিভিত্তিক ও ঠিকা-শ্রমিক, পুর এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী, আশা কর্মী, অনারারি হেলথ ওয়ার্কার্স, অর্থ দপ্তরের অধীনে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক ও ঠিকা-শ্রমিকেরা আবেদন করবেন। স্বামী/স্ত্রী, তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পিতামাতা ও শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়ে প্রত্যেকে এই স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন। এছাড়াও ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সকল সদস্য ও তাঁদের পরিবার এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আংশিক শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদেরও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
যোগাযোগ: প্রতি জেলায় ব্লকস্তরে বিডিও অফিস, শহর ও শহরতলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরসভা এবং অবশ্যই ২৪ ঘণ্টা চালু
থাকা টোল -ফ্রি নম্বর— ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮৪।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন