প্রকাশিত হচ্ছে সেই রামায়ণ! নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: পুথি সংগ্রহশালা উদ্বোধন ও অষ্টকাণ্ড জগদ্রামী রামায়ণের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার মেজিয়ার ভূলুই গ্রামে কবি জগদ্রাম রায় ও তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রামপ্রসাদের জন্মভূমি ও সাধনভূমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হল মধ্যযুগের সব থেকে বড়ো ও একমাত্র অষ্টকাণ্ডের রামায়ণের পুথিভিত্তিক সংকলন।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার ভূলুই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জগদ্রাম রায় ও তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রামপ্রসাদ। পিতা-পুত্র মিলে রচনা করেছিলেন অষ্টকাণ্ডে সম্পূর্ণ রামায়ণ, দুর্গাপঞ্চরাত্রি প্রভৃতি গ্রন্থ। এর মধ্যে রামায়ণটি হল বাংলা মধ্যযুগীয় রামায়ণ কাব্যধারার সর্ববৃহৎ রামায়ণ ও একমাত্র অষ্টকাণ্ড সমন্বিত রামায়ণ।

এই রামায়ণটির বেশ কিছু বাজারচলতি সংস্করণ থাকলেও তা পুথিপাঠভিত্তিক ছিল না। প্রচুর প্রক্ষেপে পরিপূর্ণ সেগুলি। এই অভাব বোধ থেকেই রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে পুথিভিত্তিক আলোচনা ও পাঠ নির্ণয়ে আগ্রহী হয়ে গবেষণা করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি পান পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে পঙ্কজবাবু মারা যান। তাঁর অসম্পূর্ণ কাজকে পূর্ণ করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাঁকুড়ার প্রাক্তন জেলা পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা। যার ফলস্বরূপ পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পুথিভিত্তিক জগদ্রামী রামপ্রসাদী রামায়ণ গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হল।

আরও পড়ুন ওড়িশায় প্রথম আঘাত করে ঘূর্ণিঝড় ঘুরবে বাংলার দিকে, কী দুর্যোগ অপেক্ষা করছে?

এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা। দেবনারায়ণ বাবু বলেন, “জগদ্রামী রামপ্রসাদী রামায়ণকে কী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমি উদ্যোগী হব।” এর সঙ্গেই রামায়ণ বা অন্যান্য গ্রন্থ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালা করারও কথা বলেন।

একই সঙ্গে এ দিন ভূলুই গ্রামের রক্ষিত পরিবার ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগৃহীত পুথি একত্রিত করে এই পুথিশালাটির প্রকাশ ঘটল। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ক্ষেত্র সমীক্ষক ও তরুণ গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায় বলেন, সমগ্র পরিকল্পনাটি রূপায়ণে ভূলুইয়ে গঠিত হয়েছে ‘সাধককবি জগদ্রাম ও রামপ্রসাদ স্মৃতি গবেষণা-সংগ্রহশালা-প্রকাশনা সংস্থা।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন