সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে করম। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন দফতর থেকে করম নিয়ে শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞাপনে করম গাছের ছবির বদলে ভিন্ন গাছের পাতার ছবি প্রকাশিত হয়। সমাজের বিশিষ্ট জনদের মতে, এই ঘটনায় এই সংস্কৃতিকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে, যা এত কাল হয়নি। পাশাপাশি করম পরব কুড়মি জনজাতির পৃথক সংস্কৃতি জেনেই সরকারের কুড়মি সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়ন পর্ষদের তত্বাবধানে করম পরব উপলক্ষে সরকারি ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া- এই চার জেলায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। বোর্ড ও প্রশাসনিক বৈঠকে নির্ঘণ্টও নির্ধারিত হয়। এই পরবের দিন শীর্ষ প্রশাসন জেলা শাসকের মাধ্যমে বোর্ডকে জানিয়ে দেয় যে, আর অনুষ্ঠান করার দরকার নেই।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার বহু কাল আগে থেকে জঙ্গল মহল ও পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশায় পালিত হয়ে আসছে কুড়মি জন জাতির ঐতিহ্যবাহী করম পরব। জঙ্গলের করম ডাল কেটে প্রতিস্থাপন করে নিয়ম-রীতির সঙ্গে প্রতি বছরের পার্শ্ববর্তী একাদশীতে তা পালিত হয়। পরবের ছুটির জন্য ১৯৯৩ সালে বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের কুড়মি ছাত্ররা বন্‌ধও ডাক। ঝাড়গ্রাম শহরের করমপুজোতে মহকুমা প্রশাসক, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকেছেন। এ সবের মাঝে আদিবাসী (এসসি, এসটি)-দের মুখ্য ভূমিকায় অংশ নিতে বা ধারক-বাহক হতে দেখেনি ওয়াকি বহাল মহল।

এই বিজ্ঞাপন ঘিরেই বিতর্ক

পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ মাহাতো জানান, “আমরা আজ জানতে পারি আমাদের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে”। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “যেহেতু আদিবাসী কল্যাণ দফতর থেকে সরকারি হিসাবে করম পালিত হচ্ছে, তাই আমাদের নাকি পরব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার দরকার নেই”।

আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র ইসলামপুরের দাঁড়িভিট হাইস্কুল, মৃত ১

এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাত বলেন, “কোনো সংস্কৃতিকে সরকার মান্যতা না দিক, সেটা তাদের ব্যপার। তাই বলে ধৃষ্টতা বা হেয় করার আধিকারও নেই। সরকার সমীক্ষা করে দেখুক করম পরব কারা পালন করে। এই পরব বহু প্রাচীন। কেউ নষ্ট করতে পারেনি”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন