kolkata high court
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: ১৭ মাস পর ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার।

হাইকোর্ট স্পষ্ট করেই বলে, রোপা আইন অনুযায়ী ডিএ পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। অর্থাৎ, “ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার নয়”, স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাটের তরফে জানানো রায় খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। স্বাভাবিক ভাবেই এই রায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের  কাছে বড়ো জয়।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার বিষয়টি হাইকোর্টের তরফে ট্রাইবুনালের কাছে পাঠানো হয়েছে।পাশাপাশি দিল্লি বা চেন্নাইয়ের মতো ভিন রাজ্যে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা কী হারে ডিএ পাবেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে স্যাট। আগামী ২ মাসের মধ্যে সেই সমস্যার মীমাংসা করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

এ দিন সকাল থেকেই ডিএ মামলার রায় ঘিরে সরকারি কর্মী মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। শুক্রবার দুপুর ১টায়  ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্টের। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই মামলার রায়ের দিকে স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের তাকিয়ে ছিলেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী। অন্য দিকে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা তুঙ্গে। হাইকোর্ট যে নির্দেশই দিক না কেন, তা পালন করার পরিকাঠামো তৈরি করে রাখার খবর পাওয়া গিয়েছিল নবান্ন সূত্রে।

দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে এই মামলার শুনানির পর গত ২৪ জুলাই তা শেষ হয়। বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত ও শেখর ববি শরাফের  ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির পর রায়দানের জন্য নেওয়া হয় প্রায় মাসাধিক কাল সময়।

ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার, এই যুক্তির স্বপক্ষে একের পর এক যুক্তি পেশ হয়েছে মামলাকারীদের তরফে। অন্য দিকে রাজ্য সরকার মামলার শুরুর দিন থেকে দাবি করে এসেছে, ডিএ পাওয়ার কোনও আইনগত অধিকার নেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের। সরকার ডিএ দিয়ে থাকে নীতিগত বাধ্য-বাধকতার কারণে।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের মামলা দায়ের করলে তাদের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ডিএ দেওয়া সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে ৷ ট্রাইব্যুনালের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন মলয় মুখোপাধ্যায়৷

অর্থ দফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনে যুক্ত আছেন প্রায় আড়াই লক্ষ কর্মচারী। এর বাইরে পুরসভা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং অন্যান্য স্বশাসিত সংস্থায় কর্মরতদের মিলে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষের উপর সরকারি কর্মী এ দিনের রায়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন