kotwali ps gheraod by bjp

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে পঞ্চায়েত-মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। নির্ঘণ্ট মেনে আদৌ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। তার পরেও বিরোধী শিবির থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক সন্ত্রাসের অভিযোগ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সব সন্ত্রাসের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

ভয় দেখানো, মারধরের অভিযোগ ছিলই। এ বার বিরোধী দলের কার্যালয় দখলেরও অভিযোগ উঠল শাসক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকের শুল্কাপাড়ার ঘটনা।

স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, শুল্কাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাদেশিক কৃষকসভার একটি কার্যালয় রয়েছে। রবিবার তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী সেখানে তালা মেরে দেয়। দলীয় পতাকা ছিঁড়ে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার সেই তালা ভেঙে সিপিএম নেতারা সেখানে ঢোকেন। ফের সিপিএমের পতাকা লাগানো হয়। কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠকও হয়। তার পর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে চলে যান তাঁরা। অভিযোগ দুপুরে ফের তৃণমূলের শুল্কাপাড়া অঞ্চল সভাপতি লতিফুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মীরা মিছিল করে সেখানে আসে এবং ফের তালা ভেঙে কার্যালয়টি দখল করে। সিপিএম এর পতাকাও ছিঁড়ে ফেলে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য রামলাল মুর্মু।

party office illegaly occupied by trinamul
তৃণমূলের হাতে দখল হওয়া পার্টি অফিস।

যদিও দখল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের শুল্কাপাড়া অঞ্চল সভাপতি লতিফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, “২০১৩সাল থেকে এটা তৃণমূলেরই কার্যালয়। এত দিন ব্যবহার হত না। তাই সিপিএমের লোকেরা এটা দখল করে রেখেছিল। এখন নির্বাচনী কাজের জন্য তারা ব্যবহার করবেন।” সিপিএম নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এটা যে তাদের কার্যালয় তার নথিপত্র তাদের কাছে আছে। তা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।

এ দিকে বিজেপির তরফে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দীর্ঘক্ষণ জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে রাখা হয় সোমবার। থানার গেটের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েকশো বিজেপি নেতা-কর্মী। তাদের অভিযোগ, বিজেপির হয়ে যে সব প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন, প্রতিনিয়ত তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে শাসকদল আশ্রিত গুণ্ডারা। তাঁদের বাড়িতেও হামলা চালানো হচ্ছে। জলপাইগুড়ির পাতকাটা, বারোপেটিয়া, ময়নাগুড়ি ব্লকের পদমতি, মালবাজার ব্লকের বাগরাকোট, ডামডিম এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল, অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী। তাঁর আরও অভিযোগ এ সব ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা তো নিচ্ছেই না, উলটে অভিযোগ জানাতে গেলে বিজেপি কর্মীদেরই থানায় আটকে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা এবং শাসকদলের স্বৈরতন্ত্র বন্ধের দাবিতেই সোমবার থানা ঘেরাও করে রাখে তারা। জলপাইগুড়ি শহরে বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়। পরে পুলিশের তরফে আশ্বাস মেলায় ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়। তবে বিজেপি নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এর পর পুলিশ পদক্ষেপ না নিলে দলের কর্মীরাই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন