no rain in bengal
বৃষ্টির অভাবে জলশূন্য দামোদর। দুর্গাপুর ব্যারেজ। ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: খাতায় কলমে রাজ্য থেকে বর্ষার বিদায় নিতে এখনও অন্তত দশ দিন বাকি। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের হিসেবে রবিবার শেষ হয়েছে বর্ষার মরশুম। ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষার মরশুম হিসেবে তুলে ধরে আবহাওয়া দফতর।

বর্ষা শুরু হওয়ার আগে মৌসম ভবন যে পূর্বাভাস দিয়েছিল তার থেকে বেশ কিছুটা কমেই শেষ করল এবারের বর্ষা। তুলনায় বিভিন্ন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস মিলে গিয়েছে। একদিকে যখন মৌসম ভবনের দাবি ছিল এ বার স্বাভাবিকের ৯৭ শতাংশ বৃষ্টি হবে গোটা দেশে, তখন বৃষ্টি আদতে হল ৯০.৬ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বাভাসের থেকেও ৬ শতাংশ কম।

পশ্চিমবঙ্গে কেমন হল এবারের বর্ষা?

উত্তরবঙ্গের ছবিটা কিছুটা ভালো হলেও, দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা খুবই করুণ। দক্ষিণবঙ্গে আট বছর পর কুড়ি শতাংশের বেশি ঘাটতিতে শেষ করল বর্ষা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বর্ষা শেষ করেছে ১৩ শতাংশ ঘাটতিতে।

এবার দেখা যাক বর্ষার জেলাওয়াড়ি ছবিটা। সেই ছবিটা দেখলে বৃষ্টির খামখেয়ালী আচরণ আরও বেশি করে প্রকাশ পাবে। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি বৃষ্টি-ঘাটতি ছিল মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমে। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ যথাক্রমে ৫১ এবং ৩৬ শতাংশ। কুড়ি থেকে তিরিশ শতাংশের মধ্যে ঘাটতি ছিল পুরুলিয়া (২০%), পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান (২২%), নদিয়া (২৫%), হুগলী (২৬%) এবং হাওড়া (২৯%)। দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ১৯ এবং ১৭ শতাংশ। উত্তর ২৪ পরগণায় ঘাটতি দশ শতাংশ। তুলনায় ছবিটা কিছুটা ভালো কলকাতা ও বাঁকুড়া (৫% ঘাটতি) এবং পূর্ব মেদিনীপুরে (১ শতাংশ ঘাটতি)।

আরও পড়ুন ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে এটিসি আধিকারিকের মৃত্যু ফিরিয়ে আনল ২০১৫-এর কলকাতা বিমানবন্দরের স্মৃতি

এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের কথায়। সেখানে একমাত্র জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার যথেষ্ট বৃষ্টি পেয়েছে। দুই জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে ১ শতাংশ বেশি। সব থেকে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহারের। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ৫৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরে ৩৬ শতাংশ এবং মালদায় ৪৬ শতাংশ ঘাটতি দিয়ে শেষ হয়েছে বর্ষা।

এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির ফলে এখন সব থেকে বড়ো প্রশ্ন, শুখা মরশুমে কী হবে? কারণ রাজ্যর অধিকাংশ নদীতেই এখন সেভাবে জল নেই। এর ফলে সামনের বছর গরমে রাজ্যে জলকষ্ট শুরু হবে না তো?

এখনই সেরকম অবশ্য আশঙ্কার সম্ভাবনা নেই। কারণ বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার মতে, অক্টোবরে ভালো বৃষ্টি হতে পারে গোটা রাজ্যেই। কিছু নিম্নচাপও আসতে পারে। পুজোয় তাদের কেমন প্রভাব পড়বে এখনই সেই পূর্বাভাস দেওয়া না গেলেও, রাজ্যে জলের ভাণ্ডার কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন