weather in west bengal
ফাইল ছবি

কলকাতা: এ বছর বঙ্গোপসাগরের চরিত্র বেশ খামখেয়ালি। কখন সে কী নতুন উপাদান হাজির করছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের গোড়াতেই যেমন আগাম পূর্বাভাস না দিয়েই তৈরি হয়ে গেল অতিগভীর নিম্নচাপ। ঠিক সেরকম ভাবেই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ফের ভাবিয়ে তুলেছে সাগরের চরিত্র। অনেকেই মনে করছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সাগরে তৈরি হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়।

তবে ঘূর্ণিঝড় যে হবেই সেরকম কোনো নিশ্চয়তা নেই আর তার গতিপথ পশ্চিমবঙ্গের দিকেও হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে পরোক্ষ প্রভাবে আখেরে লাভ হবে দক্ষিণবঙ্গের। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে, বিশেষত রাজ্যের উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলে।

গত কয়েকদিনের মতো বুধবার সকাল থেকেও ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেছে রোদ। কিন্তু বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার আশা, এ দিন বিকেল থেকে পালটাতে শুরু করবে আবহাওয়া। রাতের দিকেই শুরু হয়ে যেতে পারে বৃষ্টি।

আরও পড়ুন ধসের আগাম সতর্কবার্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু হল কার্শিয়াং-এ

ইতিমধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমে সেটা শক্তি বৃদ্ধি করবে বলেও জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু সেটা ঘূর্ণিঝড় হবে, এমন কিছু জানানো হয়নি আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে। সাধারণত সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না। তবে এবার কেন হবে?

এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। এই ২৫ শতাংশও অবশ্য অনেকটাই। তিনি বলেন, “নিম্নচাপটি জলীয় বাস্প নিজের কাছে টেনে নিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করতে শুরু করবে, সেই সঙ্গে বায়ু চাপও ক্রমশ কমতে থাকবে। পাশাপাশি সাগরে তাপমাত্রা বেশি থাকার ফলে শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।”

এটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয় তবে তার নাম হবে দয়া। কিন্তু তার অভিমুখ দক্ষিণ ওড়িশার দিকেই থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়েদার আল্টিমা। তবে গতিমুখ যাই থাক, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে যে ভালো বৃষ্টি হবে সেটা এক প্রকার নিশ্চিত।

সুতরাং গত কয়েকদিনের দহনজ্বালা থেকে স্বস্তিই পেতে চলেছেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন