কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক’টি ক্যাম্পাসেই মাইক বাজিয়ে সমাবেশ ও প্রতিবাদসভা নিষিদ্ধ হল। বৃহস্পতিবার তারকেশ্বরের প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ধমক খাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে কাটতেই সক্রিয় হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ক্যাম্পাসেই রাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এখন থেকে ক্লাস চলাকালীন কলেজ ক্যাম্পাসে কাউকে প্রতিবাদ সমাবেশ ও রাজনৈতিক সভা আয়োজন করতে দেওয়া হবে না।” এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে মাইক বাজিয়ে কোনো সভা বা মিটিং করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যে সব হল আছে সেগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই নিয়ম ছাত্র সংগঠন-সহ সমস্ত শিক্ষা সংগঠনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক ভাবেই স্বাগত জানিয়েছে টিএমসিপি। সংগঠনের সহ সভাপতি মণিশংকর মণ্ডল বলেন, “মাইক বাজিয়ে মিটিং মিছিল করা ঠিক নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে ছাত্র রাজনীতি থাকবে। তাই মুখে স্লোগান চলবে।”

সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (কুটা) তরফে রামপ্রসাদ চৌধুরী বলেন, এই সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে রামপ্রসাদবাবু জানান।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলেজ স্কোয়ারে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ হচ্ছে। তিনি  জানিয়ে দিয়েছেন, “কলেজ স্কোয়ারে কোনো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করা যাবে না। আমিও সভা সমাবেশ করি, তবে বছরে দু’ বার। আমাদের নির্দিষ্ট দিন আছে। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন তখন এ সব করে।”

চুঁচুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “মানুষ মাইকে স্লোগান দেয়। এই পরিস্থিতিতে কী করে ছাত্ররা পড়াশোনা করবে? আজ আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি কলেজ স্কোয়ারে আমরা কোনো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করব না।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন