ধৃত গুনিন। নিজস্ব চিত্র।
indrani
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: মৃত শিশুর কবর খুঁড়ে তুলে আনা হল কঙ্কাল। শুরু হল তন্ত্রমন্ত্র ঝাড়ফুঁক, উৎসাহী জনতার ঢল নামল অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে। অনেকে আবার প্রস্তুত মোবাইল নিয়ে এই অলৌকিক ঘটনা লেন্সবন্দি করতে। মৃত শিশুর ‘স্বপ্নাদেশে’ তাকে ফিরে পেতে এমনটাই করল মা-বাবা।

মৃত শিশুকে তন্ত্রমন্ত্র আর ঝাড়ফুঁক করে বাঁচিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল এক গুনিন। সেই কথামতোই মাটির তলা থেকে তার দেহের হাড়গোড় তুলে এনে গুনিনের সামনে রাখল পরিবারের লোকজন। সেই স্বঘোষিত গুনিনের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার সারা দিন ধরে চলল মন্ত্রতন্ত্র আর ঝাড়ফুঁক।

বিজ্ঞান আর কুসংস্কারের লড়াই চলল। কিন্তু প্রত্যাশামতো জয় হল বিজ্ঞানেরি। গুনিনের ঝাঁড়ফুকে মৃত শিশুর জীবিত হওয়ার মতো অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটল না। তবে সারেঙ্গার এই অদ্ভুত ঘটনায় উদ্বিগ্ন জেলাবাসী। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উদ্যোগেই মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়রা ওই শিশুর পরিবার ও তান্ত্রিকদের একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখেন। এই খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই সারেঙ্গা থানার পুলিশ মৃত শিশুর বাবা মঙ্গল কিস্কু, গোয়ালতোড়ের মুড়াকাটির প্রধান গুনিন পার্বতী সোরেন, গুনিন লঘু সোরেন, ভালুকচিরা গ্রামের সম্বাড়ি মাণ্ডি-সহ চার জনকে আটক করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতার সুরে শোনা গিয়েছে আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে। ভারত জাকাত মাঝি পারগানার পক্ষ থেকে গোরাচাদ মুর্মু বলেন, “আমাদের সংগঠন এই ধরনের বুজরুকি কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না, কয়েক জন মানুষের এই ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা আদিবাসী সমাজকে বিচার করা উচিত নয়। এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ কখনোই সুস্থ মস্তিষ্কের হতে পারে না।”

ধৃতদের খাতড়া আদালতে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ব্যাক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে খাতড়ার এসডিপিও বিবেক বর্মা সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন