Supreme court

কলকাতা: গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পোলেরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে যে ৮টি আসনে ভোট হয়েছিল, তার মধ্যে ৫টিতে জয়ী হয়েছিলেন পাওয়ার গ্রিড বিরোধী জমি কমিটির সদস্যরা। এই ৮টি আসনেই আদালতের নির্দেশে জমি কমিটির সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জমা করা মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছিল। এ বারই প্রথম নির্বাচনী মনোনয়নে যোগ হয়েছিল কোনো মোবাইল অ্যাপ।কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের রায়ে সেই জয়ী প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।

এ দিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি চন্দ্রচূড় ও খানউইলকরের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০১৮-র মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে। সেই রায়ে বলা হয়েছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৩৪ শতাংশ আসনের মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের জয়ী হিসাবে ঘোষণা করা যাবে। কারণ, রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। মনোনয়ন দাখিল করতে গিয়ে অভিযোগ পেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মাত্র ১৭০০টি, যেখানে তৃণমূল ব্যতীত অন্য কোনো দল মনোনয়ন জমা করতে পারেনি প্রায় ২০,১৫৯টি আসনে। স্বাভাবিক ভাবেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিরোধীদের এই অভিযোগ বস্তুত ‘মাঠে-ময়দানে’ লডা়ইয়ের অভিযোগ। এর কোনও প্রামাণ্য নথি বিরোধীরা দিতে পারেনি।


আরও পড়ুন: রাজ্যের পক্ষেই পঞ্চায়েত রায়, ঘোষণা করা যাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনের ফল

অন্য দিকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মনোনয়ন দাখিলকেও বিধি বহির্ভূত হিসাবে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ পঞ্চায়েত আইনের কোথাও অ্যাপের মাধ্যামে মনোনয়ন জমার উল্লেখ নেই। ফলে ভাঙড়ের যে পাঁচ জন পঞ্চায়েত প্রার্থী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মনোনয়ন দাখিল করে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে রইল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন