মৃত কিশোরি শ্রীতমার বাবা মৈনাকবাবু। নিজস্ব চিত্র
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সাত বছরের ফুটফুটে মেয়ে শ্রীতমা রায়। সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার কলকাতার এক হাসপাতালে মারা যায়। বাড়ি বাঁকুড়ার কোতুলপুরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামে। ইতিমধ্যেই ২৯ জন জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। তার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। বাড়ির বাইরে ছোটোদের বেরোনো কার্যত বন্ধ করেছেন অভিভাবকরা।

মৃত শ্রীতমা রায়ের বাবা মৈনাক রায় বলেন, তার মেয়ের প্রথমে জ্বরের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। পরে আরামবাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কী করে ঘটল তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানান মৈনাকবাবু। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গ্রামের অনেক শিশুর জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আমার মেয়ের মতো অবস্থা আর কারও হোক এটা কখনোই চাই না।”

গ্রামে মেডিক্যাল ক্যাম্পের পাশাপাশি সকলের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে গ্রামে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। দফতরের আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের অযথা আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন।

আরও পড়ুন আরও ছ’মাসের জন্য জিটিএ-এর মেয়াদ বাড়াল রাজ্য

স্থানীয় গ্রামবাসী রামপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা গ্রামের সকলেই যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার মেয়ে ও বৌদি কয়েক দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। চিন্তায় হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রামে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা এলেও কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি।

এ বিষয়ে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের ডেপুটি সিএমওএইচ ডাঃ অরবিন্দ হালদার বলেন, “ওই এলাকার কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোথা থেকে ইনফেকশান হয়েছে বুঝে উঠতে পারছি না। শিশুটি আরামবাগের একটি স্কুলে পড়াশুনা করত শুনেছি।” আরামবাগ না গ্রামের বাড়ি কোথা থেকে ইনফেকশান ছড়ালো তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন