taler rosogolla in bankura
তৈরি হচ্ছে সেই রসগোল্লা। নিজস্ব চিত্র
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: জঙ্গলঘেরা বাঁকুড়ার পর্যটন সম্পদের কথা সবার জানা। বাঁকুড়া বলতেই প্রথমে মনে আসে বিষ্ণুপুর, জয়পুর, মুকুটমণিপুর,সুতান অথবা রাইপুরের সবুজ দ্বীপ। সেই সঙ্গে মা সারদা, মল্লরাজা, মদনমোহন, মদনগোপাল আবার অন্য দিকে পৃথিবী বিখ্যাত ভাস্কর, চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেজ, যামিনী রায় আবার মনোহর দাস, চণ্ডীদাস, বাসুলীদেবী। এই বাঁকুড়ারই নবতম সংযোজন রসগোল্লা। বাংলার সাধারণ রসগোল্লা নয়। এটা তালের রসগোল্লা। জেলার সিমলাপালে তৈরি তালের রসগোল্লা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে।

পাকা তাল দিয়ে তৈরি রসগোল্লাই গত তিন বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে বাঁকুড়ার সিমলাপাল স্কুল মোড়ের হরিপদ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। রাজ্যের আর কোথাও এই ধরনের অভিনব রসগোল্লা মিলবে না বলে দাবি করেছেন হরিপদ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক নীলয় পাত্র।

কী ভাবে তৈরি হয় এই অভিনব তালের রসগোল্লা? এর উত্তরে নীলয়বাবু বলেন, “রসগোল্লা তৈরির মূল উপাদান ছানার সঙ্গে পাকা তালের মাড়ি অর্থাৎ কাথ মিশিয়ে এই মিষ্টি তৈরি হয়।” তালের নিজস্ব স্বাদ আর মিষ্টি গন্ধের জন্যই এই রসগোল্লা গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রথযাত্রা থেকে এই মিষ্টি তৈরি হয়। চলে দুর্গাপুজো পর্যন্ত। সিমলাপাল ছাড়িয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই রসগোল্লার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন।

আরও পড়ুন গরম থেকে মুক্তি দিয়ে স্বস্তির বৃষ্টি শহরে, বজ্রপাতে মৃত দুই

স্থানীয় বাসিন্দা ও তালের রসগোল্লাপ্রেমী অনুপ পাত্র বলেন, “নলেন গুড়, আমের, চকলেট, স্ট্রবেরি টু-ইন-ওয়ান রসগোল্লা স্বাদ নিয়েছি। একটু অভিনব কিছুর স্বাদ নেওয়ার জন্যই এই দোকানের কারিগরদের তালের রসগোল্লা তৈরির কথা বলি। তার পর থেকেই এই রসগোল্লা তৈরি করে এই দোকানের কারিগররা সাড়া ফেলে দিয়েছে।” তালের রসগোল্লার আর এক ক্রেতা রজত সিংহ মহাপাত্র বলেন, “অনেক দিন ধরে অভিনব তালের রসগোল্লার কথা শুনেছিলাম। আজ নিজেও খেলাম আর বাড়ির জন্য নিয়েও যাচ্ছি।”

তালের রসগোল্লার স্বাদ নিয়ে এ বার বাঁকুড়া ছাড়িয়ে বাংলার অন্য প্রান্তের মানুষও এখানে ভিড় করুক, এমনই চাইছে সিমলাপাল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন