Tooth Pest
সবারই চাই দাতুন। ছবি: প্রতিবেদক

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: জীবন যাত্রায় পরম্পরাগত ভাবে গ্রাম্য সংস্কৃতিকে আজও ধরে রেখেছে জঙ্গল মহলের আদি জনজাতিরা। যদি বলা যায়, সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে এরা শামিল হতে চায় না!

না, এগুলি তাদের পরম্পরাগত সংস্কৃতি। যেমন জঙ্গলবাসীদের সিংহভাগই কোনো আধুনিককালের টুথপেস্ট ব্যবহার করে না। “দাতুন” (চলতি কথায়) দিয়েই সবাই দাঁত মাজেন। কী এই দাতুন?

শাল বা নিম গাছের সরু কাণ্ড। মাপ করে ভেঙে দাঁত মাজার অংশ চিবিয়ে নরম করে দাঁতে ঘষা হয়। শেষে তা ফালি করে জিভ ছোলার কাজ শেষে ফেলে দেওয়া হয়। দাঁতন ভেষজেরও কাজ করে বলে বিশ্বাস। ভেরেন্ডা দাতুনে দাঁতের ব্যথা ও মাড়ি ফোলার ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী বলে দাবি বাসিন্দাদের। অভাবে বৈরালি (বেড়েলা) দাতুন ও উপকারী বলে জানা গিয়েছে।

tooth pest
দিন শুরুতেই দাতুন। ছবি: প্রতিবেদক

জঙ্গলের পাতা ও দাতুন বিক্রি এক সময় জঙ্গলবাসীদের রোজগারের মূল উপায় ছিল। জঙ্গল ও পাহাড় এলাকায় শিল্প কায়েম হওয়ায় তা অনেকটাই ভেস্তে যায়। ঝাড়খণ্ড এলাকায় শিল্প গড়ে ওঠার সময় চরম দুর্দশায় পড়ে এই সংস্কৃতি। কবি ভবতোষ শতপথীর লেখা ঝুমুর গানে সেই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে,”পাত তুলি নিতি নিতি /ঝুড়ি ঝাঁটি দাতুন কাঠি/আইজ কেনে বাবুই করে মানা গো/উহাদের মন নাঁঞ ছিল জানা।….শরু শরু শাল ঝাঁটি /কাটে করি গো দাতুন কাঠি/দাতুন বিকে হয় দু-চার আনা গো।”

জঙ্গলবর্তী বাঁশতলা, ঝাড়গ্রাম থে‌কে টাটা পর্যন্ত, বিপরীতে খড়্গপুর লাগোয়া এলাকায় এখনো দাতুন কেনা-বেচা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এমনকি চম্বলের পাহাড়ি এলাকাতে দাতুন ব্যবহারের প্রচলন আছে। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ড. ক্ষিতীশ মাহাত বলেন, “আদি লোক সংস্কৃতির দৈনন্দিন জীবন যাত্রার অনুকরণেই এত বড় শিষ্টাচার গড়ে উঠেছে। জঙ্গলবাসী তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এত সহজে হারাতে চায় না।গ্রাম্যস্তরের দাতুনের ব্যবহার তারই একটি দৃষ্টান্ত”। বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাতর মতে, “এই দাতুনের ব্যবহার কুড়মি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। করম পুজোর সময় জলাশয়ে উপাসকদের তেলশিয়রি বা সূর্য প্রণামের সময় দাতুনের দরকার । মৃত ব্যক্তির ঘাটে ওঠার সময় দাতুন অতি আবশ্যক”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন