road blockade at lalgarh
লালগড়-মেদিনীপুর সড়ক অবরোধ। ছবি প্রতিবেদক।
মৃণাল মাহাত

হাতি তাড়াতে কোনো রকম হুলা বা আগুন আর ব্যবহার করা যাবে না। সাম্প্রতিক কালে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে। এই রায়ের প্রেক্ষিতে সমস্যায় পড়েছেন জঙ্গলমহলের হাজার হাজার কৃষক। হাতি-উপদ্রুত এলাকার চাষিরা না পারছেন হাতি তাড়াতে, না পারছেন ফসলের ক্ষতি এড়াতে। ইতিমধ্যেই শতাধিক হাতি ঢুকে পড়েছে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে। ইতিমধ্যেই সদ্য রোপন করা কয়েকশো ধানি জমি নষ্ট করে ফেলেছে দলমার দামালেরা। তাই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও হাতি তাড়ানোর জন্য লালগড় রেঞ্জ অফিস ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে উপযুক্ত সদুত্তর না পেয়ে  লালগড়-মেদিনীপুর সড়ক অবরোধ করলেন কৃষকরা।

হাতির উপদ্রব জঙ্গলমহলে একটি চিরন্তন সমস্যা। গত চার দশক ধরে এই সমস্যা চলছে।বন দফতর সূত্রে খবর, আশির দশকে দলমা থেকে হাতির আনাগোনা শুরু হয় জঙ্গলমহলের চার জেলায়। তখন হাতি বছরে দু’বার আসত দক্ষিণবঙ্গে। মূলত ফসল পাকার সময়ে তাদের দেখা মিলত। কিন্তু গত এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল থেকে হাতি আর ফিরতে চাইছে না দলমায়। এর ফলে বছর ভর হাতির হানায় ফসল ও জীবনহানি ঘটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন দফতর হাতির আগমন ও হামলা বন্ধ করতে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ। ক্ষতিপূরণও খুব সামান্য বলে তাঁরা জানান।
লালগড়ের পুর্ণাপানি এলাকার বাসিন্দা বীরেন মাহাত বলেন, এত দিন তবু হাতি তাড়ানোর একটা সুযোগ ছিল। হুলা জ্বালিয়ে বা পটকা ফাটিয়ে ফসল রক্ষা করতাম। বন দফতর থেকে সব সরঞ্জাম দেওয়া হত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বন দফতর থেকে আর কোনো সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে না বলে চাষিরা জানান। গত দু’ সপ্তাহেই লালগড় বনাঞ্চল এলাকার পুর্ণাপানি, চাঁদাবিলা, পেলিয়া, কাঁটাপাহাড়ি এলাকায় কয়েকশো একর জমির ফসল নষ্ট করে ফেলেছে হাতির পাল। ক্ষুব্ধ চাষিরা একাধিক দাবিতে গত সপ্তাহে লালগড় রেঞ্জ অফিস ঘেরাও করেন। তাঁদের দাবি, হুলা বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে হাতি তাড়ানোর বিকল্প সরঞ্জাম দিতে হবে, ফসলের ক্ষতিপূরণ ডেসিমেল প্রতি ৬০ টাকা থেকে বাড়াতে হবে এবং ইলেকট্রিক বেড়া দিতে হবে।
লালগড় বনাঞ্চলের রেঞ্জার জগবন্ধু মাহাত বলেন, নদী সন্নিহিত এলাকা হওয়ায় এখানে ইলেকট্রিক বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। হাতি তাড়ানোর জন্য হুলার বিকল্প ভাবা হচ্ছে। চাষিদের দাবি যথাস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বন দফতর থেকে সদুত্তর না পেয়ে চাষিরা রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন লালগড়-মেদিনীপুর সড়ক অবরোধ করেন।যদিও ঘণ্টা খানেক পরে অবরোধ তুলে নেয় ক্ষুব্ধ জনতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন