adhir chowdhury and Somen Mitra

কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিপদ সোমেন মিত্রর আকস্মিক পুনরাভিষেকের নেপথ্যে পরোক্ষ ভাবে কি কাজ করেছে মায়াবতী- ফ্যাক্টর? বিধানভবনে কান পাতলে এমন আলোচনাও শোনা যাচ্ছে।

কংগ্রেস সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী কয়েক মাস আগেই বিজেপি-বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুখ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কংগ্রেসেরই একটি মহল থেকে উঠে এসেছে রাহুলের নেতৃত্বে বিজেপি-বিরোধী জোটের মুখ হিসাবে তুলে ধরা হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ওই পদের দাবিদার হিসাবে জোরালো হয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতীর নামও। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ময়াবতী সাফ জানিয়ে দেন, ছত্তীসগঢ়ের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নয়, তাঁর দল নির্বাচনী জোট গড়বে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর দলের সঙ্গে।

পাশাপাশি এমন ইঙ্গিতও ছিল যে রাজস্থানের নির্বাচনেও মায়াবতী কংগ্রেসকে উহ্য রেখেই বামেদের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ জোটে যেতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব মিলিয়ে ২০১৯-এর লক্ষ্যে পৌঁছাতে কংগ্রেসের কাছে ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করে মায়বতীর অবস্থান। যে কারণে কালবিলম্ব না করেই মমতার কাছাকাছি আসার প্রয়াসেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিপদে রদবদলের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত করল কংগ্রেস।

Mayawati
ছত্তীসগঢ়ের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নয়, তাঁর দল নির্বাচনী জোট গড়বে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর দলের সঙ্গে

অধীররঞ্জন চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিপদ থেকে সরিয়ে প্রায় ২০ বছর পর ওই পদে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হল সোমেন মিত্রকে। যদিও দায়িত্ব পাওয়ার দিনই সোমেনবাবু রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের আগ্রাসন থেকে কী ভাবে দলকে রক্ষা করা যায়, সে দিকে নজর রাখতে হবে। অনেকেই প্রলোভনে বা পুলিশের ভয়ে দল বদল করেছেন। এর বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। যে দল কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে গেল, তারা কেন নৈতিকতার প্রশ্নে ওই বিধায়কদের ইস্তফা দিতে বলল না”?


আরও পড়ুন: প্রাক্তন ‘সহকর্মী’ সোমেন মিত্রকে বার্তা দিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়

অন্যদিকে অধীরবাবুকেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ্অন্দর মহলের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সমস্ত গোষ্ঠীকে এক সঙ্গে নিয়ে ঘুঁটি সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লি নেতৃত্বের।

তবে আর যাই হোক, কংগ্রেসের একাংশ-সহ তৃণমূল বাদে রাজ্যের বাকি রাজনৈতিক দল মনে করছে, ২০১৯-এ বিজেপি-বিরোধী জোটের বার্তা আরও স্পষ্ট ভাবে মমতার কাছে পৌঁছে দিতেই তড়িঘড়ি সভাপতি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন রাহুল গান্ধী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন