darjeeling toy train
দার্জিলিং স্টেশনে টয়ট্রেন। নিজস্ব চিত্র

দার্জিলিং: কর্মীদের ধর্মঘটে বন্ধ হয়ে গেল দার্জিলিংয়ের স্টিম ইঞ্জিনচালিত টয়ট্রেন পরিষেবা। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে এই পরিষেবা।

বকেয়া বেতনের দাবিতেই এই ধর্মঘট ডেকেছেন ফায়ারম্যান-সহ টয়ট্রেনের সব কর্মী। চুক্তির ভিত্তিতে এই কর্মীদের নিয়োগ করা হয়। এর জন্য একটি সংস্থার হাতে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে।

ডিজেল এবং স্টিম, দু’ ধরনের ইঞ্জিনচালিত টয়ট্রেন চলে দার্জিলিংয়ে। কিন্তু পর্যটকদের কাছে সব থেকে জনপ্রিয় স্টিম ইঞ্জিনের টয়ট্রেন। দার্জিলিং এবং ঘুমের মধ্যে বিশেষ ‘জয় রাইড’-এর জন্য ডিজেলের থেকে স্টিমইঞ্জিন চালিত টয়ট্রেনই পছন্দ করেন পর্যটকরা।

এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইউনেস্কোর ওয়ার্ড হেরিটেজের তকমা পাওয়া এই টয়ট্রেনের ভাবমূর্তি ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করেছেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ডিরেক্টর এন কে নার্জারি। তাঁর কথায়, “কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে মঙ্গলবার থেকে টয়ট্রেন চলছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যে ঠিকাদারি সংস্থার থেকে এই কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে তাকে আমরা কালো তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য হব।” ওই সংস্থা ঠিকঠাক বিলও পেশ করেনি বলে দাবি করেন নার্জারি।

আরও পড়ুন জলসাঘরের করুণ সুরে নিমতিতা রাজবাড়ি

পুজো পর্যন্ত স্টিম ইঞ্জিনের সমস্ত ‘জয় রাইড’ বুক হয়ে রয়েছে বলে জানান নার্জারি। পর্যটকদের এখন টিকিটের ভাড়া ফেরত দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই ডিএইচআরের কাছ। ধর্মঘটী কর্মী কিশোর সুমন বলেন, “আগস্ট থেকে আমরা আমাদের মাইনে পাইনি। ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না।”

ফায়ারম্যান হিসেবে কাজ করা কর্মীরা মাসে সাড়ে আট হাজার টাকা করে বেতন পান। মাসের ২ তারিখের মধ্যেই তাদের বেতন দিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে আরও এক কর্মী মনু রাই বলেন, “এ বার আমাদের বলা হল ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগস্টের মাইনে দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা তাতে রাজি হই, কিন্তু এখনও সেটা দেওয়া হয়নি।”

গত কয়েক বছর ধরেই মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন পরিষেবা। গত বছর গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময়ে অগ্নিসংযোগের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয় কার্শিয়াং এবং গয়াবাড়ি স্টেশনের। বন্ধ ছিল পরিষেবাও। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ফের পরিষেবা চালু হওয়ার পর গত আগস্টে ধস নেমে ফের বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এর পর আবার বাধা পড়ল পরিষেবাও।

এ রকম চলতে থাকলে পর্যটকদের কাছে টয়ট্রেনের জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমতে থাকবে বলে মনে করছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন